টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর প্রভাব নিয়ে বর্তমান প্রজন্মের তরুণ কর্মীরা, বিশেষ করে ‘জেন জি’রা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, বিশ্বখ্যাত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি র্যান্ডস্ট্যাড (Randstad)-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।
কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান র্যান্ডস্ট্যাড-এর বার্ষিক ‘ওয়ার্কমনিটর’ ২০২৬ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি ৫জন কর্মীর মধ্যে ৪জনই মনে করেন এআই তাদের দৈনন্দিন কাজের ধরনে বড় পরিবর্তন আনবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছেন ‘জেন জি’ বা বর্তমান প্রজন্মের তরুণ কর্মীরা।
এআই দক্ষতার চাহিদা বেড়েছে ১৫ গুণ:
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক বছরে ‘এআই এজেন্ট’ দক্ষতা প্রয়োজন এমন চাকরির বিজ্ঞপ্তির সংখ্যা ১,৫৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ, কোম্পানিগুলো এখন এমন কর্মী খুঁজছে যারা এআই পরিচালনা করতে দক্ষ। একইসাথে দেখা যাচ্ছে, কম জটিল বা রুটিনমাফিক কাজগুলো ক্রমশ অটোমেশন এবং এআই চ্যাটবট দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে, যা তরুণদের প্রাথমিক স্তরের চাকরির সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে।
প্রজন্ম ভেদে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য:
জরিপ অনুযায়ী, তরুণ প্রজন্ম তাদের চাকরি হারানো বা নতুন প্রযুক্তির সাথে মানিয়ে নেওয়া নিয়ে যতটা শঙ্কিত, বয়োজ্যেষ্ঠ বা ‘বেবি বুমার’ (Baby Boomer) প্রজন্ম ততটাই আত্মবিশ্বাসী। র্যান্ডস্ট্যাড-এর সিইও স্যান্ডার ভ্যান ‘টি নর্ডেন্ডে রয়টার্সকে বলেন, “কর্মীরা সাধারণত এআই নিয়ে উৎসাহী, কিন্তু তাদের মধ্যে একটি সংশয়ও কাজ করে। তারা মনে করে কোম্পানিগুলো খরচ বাঁচাতে এবং দক্ষতা বাড়াতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত কর্মীদেরই ছাঁটাই করবে।”
পরিসংখ্যান যা বলছে:
- কর্পোরেট সুবিধা: জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক কর্মী মনে করেন, এআই-এর সুবিধা কর্মীদের চেয়ে কোম্পানিগুলোই বেশি ভোগ করবে।
- প্রবৃদ্ধির অমিল: ৯৫ শতাংশ নিয়োগকর্তা চলতি বছরে ব্যবসার প্রবৃদ্ধির আশা করলেও, মাত্র ৫১ শতাংশ কর্মী সেই আশাবাদে একমত হতে পেরেছেন।
- কর্মসংস্থানের চাপ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে যখন এমনিতেই অস্থিরতা চলছে, তখন এআই-এর এই দ্রুত বিস্তার শ্রমবাজারকে আরও চাপে ফেলেছে।
র্যান্ডস্ট্যাড বিশ্বের ৩৫টি দেশের ২৭,০০০ কর্মী এবং ১,২২৫ জন নিয়োগকর্তার ওপর এই জরিপটি পরিচালনা করেছে। এছাড়া তারা বিভিন্ন দেশের ৩০ লাখেরও বেশি চাকরির বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে এই তথ্যগুলো প্রকাশ করেছে।


