টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : বর্তমানে ডাটা ব্রিচ বা তথ্য ফাঁস হওয়া আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম যখন কারো ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়, তখন তিনি হয়তো স্তব্ধ হয়ে যান, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে একের পর এক বড় বড় তথ্য ফাঁসের ঘটনায় মানুষ এখন এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে সম্প্রতি ‘ওয়্যারড’ (Wired)-এর একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে, একটি অজ্ঞাত ডাটাবেস থেকে প্রায় ১৪ কোটি ৯০ লক্ষ ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড ফাঁস হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক জেরেমিয়া ফাউলার এই বিশাল ডাটাবেসটি আবিষ্কার করেছেন। এখানে জিমেইল, ফেসবুকের মতো বড় প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি বিভিন্ন স্ট্রিমিং সার্ভিস, ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার তথ্য জমা ছিল। এই ডাটাবেসটি ঠিক কতটা বিশাল, তা বোঝার জন্য বলা যেতে পারে যে এর মোট ফাইলের আকার ছিল প্রায় ৯৬ জিবি।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই বিশাল তথ্যভাণ্ডারটি কোনো প্রকার পাসওয়ার্ড বা সুরক্ষা ছাড়াই উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল, যেখানে সরকারি ওয়েবসাইটের লগ-ইন তথ্যও পাওয়া গেছে।
ফাউলার জানান, এই ডাটাবেসটি সরিয়ে নেওয়া মোটেও সহজ ছিল না। এটি হোস্ট করা সংস্থাকে বারবার অনুরোধ করার পর প্রায় এক মাস সময় লেগেছে এটি বন্ধ করতে। তবে এই ডাটাবেসটির মালিক কে বা কোন প্রতিষ্ঠান এটি পরিচালনা করছিল, তা এখনও অজানা।
আরও আশঙ্কার কথা হলো, এটি কোনো পুরনো তথ্যের সংগ্রহ ছিল না; বরং সময়ের সাথে সাথে এখানে নতুন নতুন তথ্য যুক্ত হচ্ছিল এবং এর আকার বড় হচ্ছিল।
এই পরিস্থিতিতে আপনার করণীয় কী হতে পারে?
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আপনার অ্যাকাউন্টগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে ‘টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন’ (2FA) চালু রাখা এখন বাধ্যতামূলক। এছাড়া পুরনো এবং অব্যবহৃত অ্যাকাউন্টগুলো পরীক্ষা করে দেখা উচিত, কারণ সেখানেও আপনার মূল্যবান কোনো তথ্য থেকে যেতে পারে। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করাও একটি ভালো সমাধান হতে পারে।
মনে রাখবেন, আপনার ডিজিটাল তথ্যগুলো যখন একত্রিত করা হয়, তখন তা কেবল অনলাইনেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং আপনার ব্যক্তিগত জীবনের অন্যান্য দিকগুলোকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে। তাই সর্বদা সতর্ক থাকাই এখন আত্মরক্ষার সেরা উপায়।


