টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবৈধ অর্থের লেনদেন ও অপব্যবহার রোধে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার ওপর ৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৮ ফেব্রুয়ারি, রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এই নতুন নির্দেশনা ৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত (টানা ৯৬ ঘণ্টা) বহাল থাকবে।
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে (বিকাশ, রকেট, নগদ) নতুন নিয়ম:
নির্বাচনকালীন সময়ে এমএফএস গ্রাহকদের জন্য লেনদেনের সীমা কমিয়ে আনা হয়েছে:
ব্যক্তিগত লেনদেনের সীমা : একজন গ্রাহক তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিবার সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পাঠাতে পারবেন।
দৈনিক সীমা : দিনে সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেনের মাধ্যমে মোট ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত পাঠানো যাবে।
মার্চেন্ট পেমেন্ট : তবে কেনাকাটার বিল (Merchant Payment) এবং অন্যান্য পরিষেবা বিল (Utility Bill) পরিশোধের ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকবে।
ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা বন্ধ:
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের আওতায় ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (P2P) লেনদেন বা আইবিএফটি (IBFT) সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ, ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠানো যাবে না। বিশেষ নির্দেশনা, লেনদেনের বাইরে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যান্য আনুষঙ্গিক সেবাও এই সময়ে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে।
নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও আইনি ব্যবস্থা
নির্বাচন চলাকালীন কোনো ধরনের আর্থিক অপরাধ বা সন্দেহজনক লেনদেন ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে:
১. মনিটরিং সেল: প্রতিটি এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব ‘জরুরি রেসপন্স সেল’ গঠন করতে বলা হয়েছে। ২. থানায় রিপোর্ট: কোনো অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক লেনদেন নজরে আসলেই তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা: নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেকোনো প্রয়োজনে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং পেশ পেশিশক্তির ব্যবহার কমাতে ডিজিটাল লেনদেনের ওপর এই সাময়িক সীমাবদ্ধতা জরুরি ছিল।


