টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান শিল্প হাব ভিয়েতনামে পা রাখছে ইলন মাস্কের স্টারলিংক। দীর্ঘ আলোচনার পর ভিয়েতনাম সরকার দেশটিতে স্পেসএক্স-এর এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে।
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে এই পরিষেবা পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত হবে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় স্টারলিংকের স্থানীয় ইউনিটকে স্থির এবং মোবাইল উভয় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানের লাইসেন্স দিয়েছে। কোম্পানিটিকে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি এবং রেডিও সরঞ্জাম ব্যবহারের লাইসেন্সও দেওয়া হয়েছে।
ভিয়েতনাম সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, স্টারলিংক ভিয়েতনামের যেকোনো প্রান্তে—এমনকি গভীর সমুদ্রে বা বিমানেও উচ্চগতির ইন্টারনেট সরবরাহ করতে পারবে। এই প্রকল্পের জন্য ভিয়েতনামের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তটি ভিয়েতনামের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে দেশটি কেবল তার ডিজিটাল পরিকাঠামোই উন্নত করছে না, বরং আমেরিকার সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার একটি পদক্ষেপ হিসেবেও একে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে মার্কিন শুল্ক নীতি থেকে রক্ষা পেতে ভিয়েতনামের এই সিদ্ধান্তটি একটি ‘জলপাই শাখা’ বা বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে কাজ করতে পারে।
এক নজরে স্টারলিংক ভিয়েতনাম প্রকল্প:
- বিনিয়োগ: স্পেসএক্স ভিয়েতনামে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
- গ্রাহক সীমা: ট্রায়াল চলাকালীন সর্বোচ্চ ৬ লাখ গ্রাহক এই সেবা নিতে পারবেন।
- মালিকানা: কোনো স্থানীয় অংশীদার ছাড়াই স্পেসএক্স শতভাগ মালিকানা নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।
- অবকাঠামো: সেবাটি নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ভিয়েতনামের দা নাং-এ (Da Nang) একটি গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপনের কাজও দ্রুত শুরু হবে।
পার্বত্য অঞ্চল এবং প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে যেখানে ক্যাবল বা টাওয়ারের মাধ্যমে ইন্টারনেট পৌঁছানো কঠিন, সেখানে স্টারলিংকের এই স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ভিয়েতনামের ইন্টারনেট সংযোগে বিপ্লব ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


