টেকসিঁড়ি রিপোর্টঃ বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ‘আনফিল্টার্ড’ (পরিশোধিত নয় এমন) ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে স্টারলিংক সার্ভিসেস বাংলাদেশ লিমিটেড। তবে স্থানীয় কেবল অপারেটরদের মাধ্যমে এই রপ্তানি প্রক্রিয়া শুরু করার আগে সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন নেবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
প্রস্তাবিত ব্যান্ডউইথ ও অংশীদারিত্ব
স্টারলিংক প্রাথমিকভাবে ৪০ জিবিপিএস (Gbps) ব্যান্ডউইথের অনুরোধ করেছে, যা পরবর্তীকালে ৪০০ জিবিপিএস পর্যন্ত বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সেবা প্রদানের জন্য তারা স্থানীয় গেটওয়ে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সামিট কমিউনিকেশনস এবং ফাইবার অ্যাট হোম গ্লোবাল-এর অবকাঠামো ব্যবহার করবে। উল্লেখ্য, এই ব্যান্ডউইথ শুধুমাত্র বাংলাদেশের বাইরের গ্রাহকদের জন্য ব্যবহার করা হবে।
আঞ্চলিক হাব হওয়ার সম্ভাবনা
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তার মতে:
এর ফলে বাংলাদেশ একটি আঞ্চলিক ডেটা হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।
স্থানীয় অপারেটরদের জন্য প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ প্রশস্ত হবে।
ভুটান ও নেপালের মতো ল্যান্ডলকড দেশগুলোর গুণগত মানের ইন্টারনেটের জন্য এ ধরনের সরাসরি বা আনফিল্টার্ড কানেক্টিভিটি অত্যন্ত জরুরি।
বিটিআরসি-র কঠোর শর্তাবলী
নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিতে বিটিআরসি বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে:
ট্রাফিক পৃথকীকরণ: দেশের অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ডেটা ট্রাফিক সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে।
রিয়েল-টাইম মনিটরিং: বিটিআরসি-র কাছে রিয়েল-টাইম মনিটরিং করার সক্ষমতা থাকতে হবে।
ডেটা অ্যাক্সেস: স্টারলিংক ইতোমধ্যে নেটওয়ার্ক ডায়াগ্রাম এবং একটি ‘কমপ্লায়েন্স এপিআই’ (Compliance API) প্রদান করেছে, যার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশি গ্রাহকদের ডেটা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।
অতীত অভিজ্ঞতা
এর আগেও বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ রপ্তানির নজির রয়েছে। বিটিআরসি জানিয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি ভারতের বিএসএনএল-কে (BSNL) ২০ জিবিপিএস পর্যন্ত আনফিল্টার্ড আইপি ট্রানজিট সরবরাহ করেছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই স্টারলিংকের প্রস্তাবটি বিবেচনা করা হচ্ছে।


