টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর মানুষের চাঁদের কাছাকাছি যাওয়ার প্রথম অভিযান সম্পন্ন করলো। আর্টেমিস ২ মিশনে মহাকাশচারীরা পৃথিবী থেকে রেকর্ড পরিমাণ দূরত্ব (প্রায় ৪ লক্ষ ৬ হাজার কিলোমিটার) পাড়ি দিয়েছেন, যা অ্যাপোলো ১৩-এর করা আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
নাসার ওরিয়ন ক্যাপসুলটি ১০ এপ্রিল বিকেলে (বাংলাদেশ সময় ১১ এপ্রিল ভোরে) প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। এতে ৪ জন মহাকাশচারী ছিলেন— কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। মহাকাশযানটি প্রায় ১১ লক্ষ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছে।
নাসার কর্মকর্তারা এই অবতরণকে ‘পারফেক্ট বুলস-আই’ বা একদম লক্ষ্যভেদী নিখুঁত অবতরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ওরিয়ন ক্যাপসুলটিকে চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এ সময় ঘর্ষণের ফলে ক্যাপসুলটির বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ৫,০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছেছিল।
তীব্র তাপে বায়ুমণ্ডলে যে আয়নিত গ্যাসের সৃষ্টি হয়, তার ফলে কয়েক মিনিটের জন্য পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে মহাকাশচারীদের রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তবে সব বাধা কাটিয়ে প্যারাশুটের মাধ্যমে এটি মাত্র ২০ মাইল বেগে সাগরের পানিতে শান্তভাবে অবতরণ করে।
এছাড়াও এই মিশনে প্রথম নারী এবং প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহাকাশচারী হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে যাওয়ার ইতিহাস গড়েছেন ক্রিস্টিনা কোচ ও ভিক্টর গ্লোভার।
এই মিশনের সফল সমাপ্তি ২০২৮ সালে চাঁদের বুকে পুনরায় মানুষ নামানোর (আর্টেমিস ৩) পথকে প্রশস্ত করল। নাসা কেবল চাঁদে ফিরে যাওয়াই নয়, বরং সেখানে দীর্ঘমেয়াদী ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মহাকাশচারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, চাঁদে ফেরার পর পরবর্তী বড় লক্ষ্য হবে ‘মঙ্গল গ্রহ’ অভিযান। মহাকাশচারীদের উদ্ধার করে বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে নেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকে তাদের হিউস্টনে নাসার কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে।


