টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : বিলাসবহুল ফ্যাশন হাউস গুচি, গুগলের সাথে যৌথভাবে একজোড়া স্মার্টগ্লাস বাজারে আনবে। এই তথ্য জানিয়েছেন গুচির মূল সংস্থা কেরিং-এর সিইও লুকা ডি মেও।
আপাতদৃষ্টিতে, এটি ইতিমধ্যেই একটি ভালো খবর, কারণ চশমা তৈরিতে অভিজ্ঞ যত বেশি কোম্পানি স্মার্টগ্লাস নিয়ে কাজ করবে, ততই ভালো । তবে, এই অংশীদারিত্বের পেছনে আরো বেশি কিছু থাকতে পারে।
লুকা ডি মেও, ২০২৫ সালের শেষের দিকে কেরিং-এ যোগ দিয়েছেন। তিনি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে গুচির স্মার্টগ্লাস “সম্ভবত” ২০২৭ সালে আসবে, কিন্তু এর সময়সীমা, ডিজাইন বা ফিচার সম্পর্কে তিনি এর বেশি কিছু জানান নি।
গুচিই প্রথম বড় মাপের ডিজাইনার ব্র্যান্ড যারা গুগলের সাথে চুক্তি করার ইঙ্গিত দিয়েছে, কিন্তু এটিই প্রথম আইওয়্যার ব্র্যান্ড নয়। গুগল ইতিমধ্যেই তার এআই গ্লাসের জন্য আরও জনপ্রিয় ওয়ারবি পার্কার এবং ফ্যাশন-সচেতন জেন্টল মনস্টার ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করছে।
অ্যান্ড্রয়েড পুলিশ এমডাব্লিউসি ২০২৬-এ অ্যান্ড্রয়েডের এআই গ্লাসের একটি প্রোটোটাইপ জোড়া পরখ করে দেখার সুযোগ পেয়েছিল এবং এই তুলনামূলক প্রাথমিক পর্যায়েও এর প্রযুক্তি এবং ফিট দুটোই বেশ আকর্ষণীয় বলে জানিয়েছে তারা ।
গুচি-র সাথে এই চুক্তিটি রোমাঞ্চকর। এটি কেবলমাত্র শুরু হতে পারে। অন্যান্য অনেক লাক্সারি ব্র্যান্ডের মতো গুচি-ও একটি বড় গ্রুপের অংশ। এর মূল প্রতিষ্ঠান কেরিং ( Kering )-এর মালিকানায় আরও রয়েছে কেরিং আইওয়্যার, সেন্ট লরেন্ট, ব্যালেন্সিয়াগা, ম্যাককুইন, বোত্তেগা ভেনেটা এবং বুশরোঁ-র মতো বেশ কিছু নামি ব্র্যান্ড।
যদিও ডি মেও স্মার্টগ্লাসের প্রসঙ্গে বিশেষভাবে গুচি-র নাম উল্লেখ করেছেন, তবে গত সপ্তাহে এক দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিলাস পণ্যের বাজারের পরিবর্তন, গুচি-কে আবারো লাক্সারি দুনিয়ার শীর্ষে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা এবং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে পুরো কেরিং গ্রুপকে ঢেলে সাজানোর কথা বলেছেন।
ফ্যাশন নেটওয়ার্ক তাদের প্রতিবেদনে দ্য মেও-কে একজন “প্রযুক্তি উৎসাহী” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এছাড়া বছরের শুরুতে ‘কেরিং ইনোভেশন ডে’-তে স্ন্যাপচ্যাটের মতো কোম্পানিগুলো কেরিং-এর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাথে অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) অভিজ্ঞতা এবং গুগল তাদের এআই (AI) ব্যবহার করে ভার্চুয়াল ট্রাই-অন (ভার্চুয়ালি পণ্য পরে দেখার সুবিধা) প্রদর্শন করেছে।
ডি মেও-র নিয়ন্ত্রণে কেরিং নতুন কিছু করতে দ্বিধাবোধ করছে না, যা তিনি ভোগের (Vogue) কাছে স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন: “চ্যালেঞ্জার হতে হলে ভুল করার সুযোগ রাখতে হয়, তবে তা হতে হবে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে। আপনি পুরো বাজি ধরবেন না; বরং এমন একটি গণ্ডি নির্ধারণ করবেন যা আপনাকে নতুন ভৌগোলিক এলাকা বা নতুন ক্যাটাগরির ব্র্যান্ডগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেবে।”


