টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : সেমিকন্ডাক্টর খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে এই সংক্রান্ত ২টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের উন্নয়ন, গবেষণা এবং অবকাঠামোগত সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি ল্যাবরেটরিগুলোকে একটি ‘শেয়ার্ড ন্যাশনাল রিসার্চ ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে দুটি পৃথক চুক্তি সই হয়। প্রথমটি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (BAEC), CREST এবং নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড (NSL)-এর মধ্যে। দ্বিতীয়টি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (BCSIR), CREST এবং NSL-এর মধ্যে।
নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ড. এম. মঈনুল ইসলাম, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন; ড. সামিনা আহমেদ, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ; এম. এ. জব্বার, সভাপতি, বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড; এবং অধ্যাপক মোস্তফা হোসেন, কনভেনর, CREST।
গবেষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা
CREST অনুমোদিত গবেষক ও শিক্ষার্থীরা এখন থেকে পরমাণু শক্তি কমিশন ও BCSIR-এর ল্যাব ব্যবহার করতে পারবেন। সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব্রিকেশন, টেস্টিং এবং ক্যারেক্টারাইজেশনের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলো। ক্লিনরুম আধুনিকায়ন এবং যৌথ তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণার পথ প্রশস্ত হলো।
অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনা
এই প্রকল্পের একমাত্র পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড প্রয়োজনীয় আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা দেবে। ল্যাবরেটরি পরিচালনা এবং নিরাপত্তা তদারকি সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর (BAEC ও BCSIR) নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।
মন্ত্রণালয়ের সচিব আশা প্রকাশ করেন যে, শিল্প ও একাডেমিয়ার এই যৌথ উদ্যোগ সেমিকন্ডাক্টর খাতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। নিউরাল সেমিকন্ডাক্টরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. জব্বার জানান, এই চুক্তির ফলে জাতীয় গবেষণা অবকাঠামো উদ্ভাবনের জন্য আরও সহজলভ্য হবে।


