টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ওপেনএআই । জনপ্রিয় এআই টুল চ্যাটজিপিটির ওপরের অংশে এখন থেকে বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন ব্যবহারকারীরা। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রি ব্যবহারকারী এবং নতুন সাশ্রয়ী সাবস্ক্রিপশন টায়ার ‘চ্যাটজিপিটি গো’ ব্যবহারকারীদের ওপর এই ট্রায়াল চালানো হবে।
ব্যবহারকারীদের খরচ কমাতে ওপেনএআই বিশ্বব্যাপী চ্যাটজিপিটি ‘গো’ নামের একটি নতুন সেবা চালু করছে। এর মাসিক ফি নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৮ ডলার (বা সমপরিমাণ স্থানীয় মুদ্রা)। উল্লেখ্য, এই সেবাটি ২০২৫ সালে প্রথম ভারতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে চ্যাটজিপিটির প্লাস (২০ ডলার) এবং প্রো (২০০ ডলার) নামের আরও দুটি প্রিমিয়াম সংস্করণ চালু রয়েছে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর প্রম্পটের ওপর ভিত্তি করে প্রাসঙ্গিক বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি মেক্সিকোতে ভ্রমণের জায়গা সম্পর্কে জানতে চান, তবে উত্তরের পাশাপাশি হলিডে প্যাকেজের বিজ্ঞাপন বা ব্যানার দেখা যেতে পারে।
তবে প্রতিষ্ঠানটি আশ্বস্ত করেছে যে, বিজ্ঞাপন চ্যাটজিপিটির উত্তরে কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত কথোপকথন বিজ্ঞাপনদাতাদের সাথে শেয়ার করা হবে না।
ওপেনএআই-এর মতে, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় বাড়লে আরও বেশি মানুষ কম খরচে এআই টুলগুলো ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
তবে বিশ্লেষকদের ধারণা ভিন্ন। অনেকের মতে, এআই সেক্টরে বিনিয়োগের তুলনায় মুনাফা না হওয়ায় একটি ‘বাবল’ বা বুদবুদ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ৬ মাসেই ওপেনএআই প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার লোকসান গুনেছে। বর্তমানে চ্যাটজিপিটির ৮০ কোটি ব্যবহারকারীর মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ প্রিমিয়াম গ্রাহক।
এআই বিশেষজ্ঞ হেনরি আজডার বলেন, “ওপেনএআই ব্যবহারকারী বাড়ালেও এখনো মুনাফা করতে পারেনি। বিনিয়োগকারীদের টাকা পুড়িয়ে টিকে থাকার চেয়ে স্থায়ী আয়ের জন্য বিজ্ঞাপন একটি নির্ভরযোগ্য পথ।”
এক সময় ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যান বিজ্ঞাপনকে ‘শেষ অবলম্বন’ হিসেবে বর্ণনা করলেও বর্তমান বাণিজ্যিক প্রেক্ষাপটে কোম্পানিটিকে এই পথেই হাঁটতে হচ্ছে।
শুধু ওপেনএআই নয়, পারপ্লেক্সিটি (Perplexity) এবং গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও এআই-তে বিজ্ঞাপন প্রচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। যদিও গুগল ২০২৬ সালে তাদের ‘জেমিনি’ এআই-তে বিজ্ঞাপন আনার খবরটি অস্বীকার করেছে।
মূলধারার ইন্টারনেট অর্থনীতি গত দুই দশক ধরে বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর করে চললেও, এআই-এর ক্ষেত্রে এই মডেল কতটা সফল হয় তা-ই এখন দেখার বিষয়।


