‘ফোন ছাড়া বাথরুমেই না যাওয়া জাতিকে ফোন না নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার অর্ডার দেয়ার কারনে ইলেকশন কমিশনারের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া উচিত । সে আমাদের কেউ না ।’
কেন্দ্রে ভোটারদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে ফেইসবুকে এমন পোস্ট লিখেছেন অনলাইন এক্টিভিস্ট এবং এডভান্সড ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিস এর হেড অফ মার্কেটিং আরিফ আর হোসেন ।
ইসির এই নয়া সিদ্ধান্তের কারণে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোটের দিন ভোটারদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার , ৮ ফেব্রুয়ারি ইসির জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেন।
এই নিয়ে কুমিল্লা ৪ এর প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেইসবুকে লেখেন, ” ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের অর্থ হলো সবাইকে নিজের মোবাইল ঘরে রেখে যেতে হবে। এমনকি কোনো মোজো সাংবাদিক বা সিটিজেন জার্নালিজমও এলাউড না। এটা স্পষ্টত হঠকারী সিদ্ধান্ত। ইঞ্জিনিয়ারিং বা জালিয়াতি করার ইচ্ছে থাকলেই কেবল এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল নিয়ে না যাওয়ার কোনো লজিক নেই। এমনটা আগে কখনো দেখিনি। এটার মানে কোনো বিপদ হইলেও কল করে কাউকে জানানো যাবে না। অনেকে নিরাপত্তাহীনতার জন্য মোবাইল নিতে না পারলে ভোট দিতেও যাবে না।
সিসি ক্যামেরা থাকলেও তাৎক্ষণিক কোনো কাজে দিবে না। মোবাইলের মাধ্যমে সাংবাদিকরা যেভাবে ভূমিকা রাখতে পারবে, অনিয়ম জালিয়াতির চিত্র দেখাতে পারবে তা ক্যামেরা পারবে না। কেন্দ্র দখল-ভোট চুরি ঠেকাতে ব্যক্তিগত ফোন কার্যকর হবে। সাথে সাথেই ভিডিও রেকর্ড হয়ে যাবে। হয়ত এসব জালিয়াতির ভিডিও কেউ করতে না পারে সে জন্য ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন। এটা সুস্পষ্টভাবে ভোট চু/রির সুযোগ করে দেয়া। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত। ”
অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন লেখেন, “অডিও-ভিডিও যেখানে আইনগতভাবে স্বাক্ষ্য হিসেবে গ্রহনযোগ্য, সেখানে যুগের চাহিদার কারণে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ, মানে ১২০০ ফিটের মধ্যে মোবাইল নিয়ে যাওয়া যাবে না, তা কোনো অবস্থাতেই গ্রহনযোগ্য নয়। তারমানে নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের মধ্যে আছে। তাই কোনো প্রমাণ রাখতে চাচ্ছে না। আর সেই ধাক্কা সামলাবার ক্ষমতা এই বৃদ্ধ বয়সে তাদের কারোই নেই। শুধু বুথের ভিতর ছাড়া বাইরে মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হোক। এটা জনগণের অধিকার। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার। টয়লেটে গেলেও আমরা মোবাইল নিয়ে যাই। যুগের চাহিদা। জীবনযাত্রার অন্যতম মৌলিক টুলস এই মোবাইল। কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা হচ্ছে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট। যারা ভোট অনুষ্ঠিত করছে, তাদের নিয়ন্ত্রণেই ক্যামেরা। জনগণের অধিকার সেখানে নেই। আমার অধিকার আমাকে দিতেই হবে। এই আদেশ বাতিল করা হোক। মোবাইল নিষিদ্ধ হবে বুথ এবং কেন্দ্রে, বাইরে নয়।”
পাঠশালা (ফটোগ্রাফি ইনস্টিটিউট) এর শিক্ষক এবং ফটোগ্রাফার দিন মোহাম্মদ শিবলী লেখেন, ভোটের সবচেয়ে আনন্দদায়ক ব্যক্তিগত ছবি হলো ভোট দেওয়ার পরে আঙ্গুলের অমোচনীয় কালির ছবি প্রদর্শন। দয়া করে এই আনন্দ থেকে কাউকে বঞ্চিত করবেন না। আর একজন নাগরিক হিসেবে ভোটকেন্দ্রে আমি অনিয়ম দেখলে তার ছবি তুলতে চাই; ভিডিও করতে চাই।
বিডিনিউজ ২৪ এর সংবাদকর্মী জেসমিন মলি লেখেন, “ডেনমার্কে ডিজিটাল আসক্তি কমাতে স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ। লক্ষ্য একটাই, মনোযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি। আর আমাদের এখানে ভোটের দিন নির্বাচন কমিশন ৪০০ গজ ব্যাসার্ধে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে, যেন গণতন্ত্রের মনোযোগ ফেইসবুক নোটিফিকেশনে নষ্ট না হয়। নাগরিকদের স্ক্রিন টাইম কমাতে এমন যুগোপযোগী উদ্যোগের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ। ডেনমার্ক যেখানে স্কুল থেকে শুরু করেছে, আমরা শুরু করলাম ভোটকেন্দ্র থেকে।আলহামদুলিল্লাহ! ”
২৪ এর জুলাইয়ে বিজয়ের মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছে মোবাইল ভিডিও আর ইন্টারনেট। সেই ভয় থেকেই এই ব্যবস্থা সম্ভবত। কেন্দ্র দখল বা ভোট জালিয়াতি করলেই কেউ ভিডিও করতে পারবে না। কারণ, সবাই মোবাইল বাসায় রেখেই যাবে, এমন লেখেন অনলাইন পেশাজীবি, শহীদ রায়হান।
বিশিষ্ট লেখক এবং অনলাইন এক্টিভিস্ট আমিনুল ইসলাম লেখেন, এই যুগে মোবাইল বাসায় রেখে কি কেউ চলাফেরা করে? তাহলে ভোটাররা মোবাইল কোথায় রেখে যাবে? আর ভোট কেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে গেলে নির্বাচন কমিশনের সমস্যা কোথায়? এটা কি বিসিএস পরীক্ষা নাকি ম্যাট্রিক পরীক্ষা? এমনিতেই মানুষজন ভোট দিতে যেতে চায় না। আর আপনারা বলছেন- মোবাইল রেখে ভোট কেন্দ্রে যেতে। তাহলে ভোটাররা ভোট দিতে যাবে কেন? আপনাদের যুক্তিটা আসলে কী? আপনি তো বলবেন- বুথের ভেতর যেন কেউ মোবাইল ব্যবহার না করে। সেখানে প্রিজাইডিং অফিসার আছে। তাঁকে মোবাইল দিয়ে যাবে। কেন্দ্রে কেন মোবাইল নেয়া যাবে না? এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন। মানুষকে আনন্দের সাথে ভোট দিতে দিন।
“এই যে দেখেন মোটরবাইক বন্ধ, মোবাইল নেয়া মানা, বিশ্বাস করেন আর নাই করেন এর সব গুলাই চলবে। পাতি নেতারা হেলমেট ছাড়া বাইক চালাবে। এইসব নিয়ম নীতি সব সাধারন মানুষের জন্য, পাতিনেতাদের জন্য না। ধুর আমার কি, আমি তো বাসায় বইসা ঘুম দিমু।” ফেইসবুকে লেখেন দপ্তরির মোহাম্মদ রনি ।


