টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : ইলন মাস্কের মালিকানাধীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) টুল গ্রোক বর্তমানে বড় ধরনের বিতর্কের মুখে পড়েছে। ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করছেন যে, গ্রোক ব্যবহার করে এক্স প্ল্যাটফর্মে নারীদের এবং এমনকি শিশুদেরও আপত্তিকর বা যৌনতাপূর্ণ ছবি তৈরি করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে গ্রোক একটি নতুন “Edit Image” বাটন যুক্ত করে । এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এক্স এ থাকা যেকোনো ছবিকে এআই-এর মাধ্যমে পরিবর্তন করার সুযোগ পান। অভিযোগ ওঠে যে, অনেক ব্যবহারকারী এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে সাধারণ নারী, তারকা এবং শিশুদের ছবি আপলোড করে সেগুলোকে “ড্রেস চেঞ্জ” বা “বিচ মোড”-এ নিয়ে যাওয়ার কমান্ড দিচ্ছেন। এর ফলে এআই মূল ছবিটিকে বিকৃত করে অশালীন পোশাকে উপস্থাপিত করছে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, গ্রোক শিশুদের ছবি ব্যবহার করেও আপত্তিকর এবং যৌনতাপূর্ণ ছবি তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শিশুদের নিয়ে এমন কনটেন্ট তৈরি করা শিশু পর্নোগ্রাফি হিসেবে গণ্য হয়, যা একটি গুরুতর অপরাধ।
ফ্রান্স সরকার বিষয়টিকে “পুরোপুরি অবৈধ” বলে ঘোষণা করেছে এবং তাদের পাবলিক প্রসিকিউটরকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিস অ্যাক্ট (DSA) লঙ্ঘনের দায়ে এক্স বড় জরিমানার মুখে পড়তে পারে।
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক্স-কে কড়া নোটিশ পাঠিয়েছে। এই ধরনের অশ্লীল ছবি প্রচার বন্ধে কোম্পানি কী পদক্ষেপ নিচ্ছে , তারা জানতে চেয়েছে ।
ইলন মাস্কের কোম্পানি এক্স এআই প্রথম থেকেই গ্রোককে অন্যান্য এআই (যেমন ChatGPT বা Gemini) এর তুলনায় অনেক বেশি উন্মুক্ত এবং “আনফিল্টার্ড” হিসেবে প্রচার করেছে। গ্রোকে একটি স্পাইসি মোড ( “Spicy Mode”) রয়েছে যা মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের কৌতুক বা কড়া ভাষার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ব্যবহারকারীরা এর এই শিথিল নিরাপত্তার সুযোগ নিয়ে ক্ষতিকর ছবি তৈরি করছেন।
প্রথমে এক্স এআই’র পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোকে “মিডিয়ার মিথ্যাচার” বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, বিতর্কের মুখে গ্রোক নিজেই এক পোস্টে স্বীকার করেছে যে তাদের নিরাপত্তায় কিছু ত্রুটি বা “lapses in safeguards” ছিল। তারা বর্তমানে এই ত্রুটিগুলো দ্রুত সংশোধনের কাজ করছে বলে জানিয়েছে।



