টেকসিঁড়ি রিপোর্টঃ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের পদত্যাগ এবং আকস্মিক দেশ ছাড়ার খবর নিয়ে শনিবার দিনভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের ফল আসার ঠিক পরপরই তার এই দেশত্যাগের বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানা জল্পনা-কল্পনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
দেশত্যাগের বিষয়ে ফয়েজ আহমদের ব্যাখ্যা
সমালোচনার মুখে গতরাতে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে দেশ ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। পোস্টে তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো গোপন পথে পালাননি বরং যথাযথ নিয়ম মেনেই বিদায় নিয়েছেন। তবে তার বক্তব্যে কিছুটা অসংগতি লক্ষ্য করা গেছে; তিনি এক জায়গায় দাবি করেছেন তিনি ‘আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন’ এবং অন্য জায়গায় উল্লেখ করেছেন ‘ছুটি চেয়ে যথাযথভাবে পরিবারের কাছে যাচ্ছেন’।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন:
“ফেব্রুয়ারির ৮, ৯, ১০ তারিখে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছি আইসিটি, পিটিডি ও বিটিআরসি থেকে। এরপরে নির্বাচনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি। ১০ ফেব্রুয়ারি অফিসিয়ালি শেষ কর্ম দিবস ছিল। সেদিন কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার সাথে একসাথে ফেয়ারওয়েল ডিনার করেছি। গান গেয়ে বিদায় দিয়েছেন আমার সহকর্মীরা।”
পারিবারিক কারণ দর্শিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, “ছেলের স্কুলে প্যারেন্টস মিটিং আছে প্লাস স্ত্রীর মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি আছে। ছুটি চেয়ে যথাযথভাবেই পরিবারের কাছে যাচ্ছি। একটা দীর্ঘ সময় সন্তান ও পরিবারকে সময় দিতে পারিনি, পরিবারকে কিছুটা সময় দিতে হবে।”
নিয়োগ ও বিতর্কিত অধ্যায়
নেদারল্যান্ডস-ভিত্তিক অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে ২০২৫ সালের ৫ই মার্চ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, এনইআইআর (NEIR) বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্ক এবং টেলিকম খাতের মাফিয়াদের সুবিধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি সততার সাথে কাজ করেছেন এবং একটি দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করেছেন।
বিপরীতধর্মী তথ্য ও ইমিগ্রেশন বিতর্ক
ফয়েজ আহমদ নিয়মতান্ত্রিক বিদায়ের কথা বললেও কিছু গণমাধ্যম ও ইমিগ্রেশন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। জানা গেছে, গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি তিনি জরুরি পারিবারিক কারণে মাত্র ৫ দিনের ছুটির আবেদন করেছিলেন। প্রশ্ন উঠেছে, যদি তিনি পদত্যাগ করে আনুষ্ঠানিক বিদায়ই নিয়ে থাকেন, তবে কেন মাত্র ৫ দিনের ছুটির আবেদন করলেন?
এছাড়া ইমিগ্রেশনের একটি সূত্র দাবি করেছে, তার কোনো ‘গভর্নমেন্ট অর্ডার’ (GO) ছিল না এবং চ্যালেঞ্জ করা হলে তিনি বিশেষ প্রটোকলে ইমিগ্রেশন পার হন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরদিন কেন তাকে এভাবে দ্রুত দেশ ছাড়তে হলো।
বর্তমান অবস্থা
শনিবার সকাল ১০টার দিকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি দুবাই হয়ে জার্মানির উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। তিনি নেদারল্যান্ডসের পাসপোর্টধারী নাগরিক হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেখানেই ফিরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগগুলো নিয়ে তদন্ত হবে কি না, তা নিয়ে জনমনে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।


