টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : সাধারণ মানুষের ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের চাপ সৃষ্টিতে কোম্পানিগুলো কিছুটা হিমশিম খেলেও, একটি ক্ষেত্রে এর ব্যবহার কোনো উৎসাহ ছাড়াই বাড়ছে—আর তা হলো শিক্ষা। এআই বলতেই অনেকের মাথায় প্রথমে শিক্ষার্থীদের ‘অ্যাসাইনমেন্ট লিখে নেওয়া’র মতো নেতিবাচক বিষয় আসলেও, এই প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকটিও বেশ উজ্জ্বল।
সম্প্রতি গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘জেমিনি’ শিক্ষার্থীদের জন্য এমন কিছু ফিচার নিয়ে এসেছে, যা তাদের পড়াশোনার ধরনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কলেজগুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে ‘এসএটি’ (SAT) পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ করতে গুগল পার্টনারশিপ করেছে বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য প্রিন্সটন রিভিউ’-এর সাথে। এখন শিক্ষার্থীরা জেমিনি ব্যবহার করে সরাসরি মক টেস্ট বা প্র্যাকটিস টেস্ট দিতে পারবে। জেমিনি কেবল পরীক্ষাই নেবে না, বরং তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল বিশ্লেষণ করে বলে দেবে কোন উত্তরটি সঠিক হয়েছে এবং কোথায় আরও উন্নতির সুযোগ আছে।
শুধু বড় পরীক্ষাই নয়, দৈনন্দিন পড়াশোনাতেও জেমিনি বেশ কার্যকর। গুগল জানিয়েছে, জেমিনি এখন ক্লাসের নোটগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘স্টাডি গাইড’ বা অধ্যয়ন সহায়িকায় রূপান্তর করতে পারে। এছাড়া মুখস্থ করার সুবিধার্থে এটি ‘ফ্ল্যাশকার্ড’ তৈরি করে দিতে পারে এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী পার্সোনালাইজড প্র্যাকটিস সেশন বা অনুশীলন পর্ব পরিচালনা করতে পারে।
তবে এই প্রযুক্তির কিছু নেতিবাচক দিকও সামনে এসেছে। এমআইটি’র একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত এআই নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাশক্তি কমিয়ে দিতে পারে। এটি মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে সহায়তার পরিবর্তে অলস করে তোলার ঝুঁকি তৈরি করে।
যাইহোক, এসএটি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে জেমিনিকে কেবল একটি সহায়ক সরঞ্জাম হিসেবে দেখা হচ্ছে যা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানকে ঝালাই করতে সাহায্য করবে। অপব্যবহারের সুযোগ থাকলেও, এই টুলটি শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচাতে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে জেমিনিকে কেবল একটি কমান্ড দিলেই এটি আপনার জন্য এসএটি প্র্যাকটিস টেস্ট সেটআপ করে দেবে।



