টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পাশা উল্টে দিয়েছে গুগল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে একসময় পিছিয়ে পড়া গুগল এখন বাজার নেতৃত্বে। প্রযুক্তি বিশ্বের নজর কেড়ে গুগল প্যারেন্ট কোম্পানি ‘অ্যালফাবেট’ এখন ওয়াল স্ট্রিটের চোখে এআই খাতের নতুন নেতা। বুধবার কোম্পানির বার্ষিক আয়-ব্যয় ঘোষণার পর এই নতুন আত্মবিশ্বাসী রূপ দেখা গেছে।
জেমিনি ৩-এর সাফল্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি
গত বছর যেখানে বিনিয়োগকারীরা গুগলের পিছিয়ে পড়া নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন, সেখানে জেমিনি ৩ (Gemini 3) মডেলের অভাবনীয় সাফল্য চিত্রটি বদলে দিয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গুগল কেবল প্রতিদ্বন্দ্বীদের ধরে ফেলেনি, বরং আয়ের দিক থেকেও বড় সাফল্য দেখিয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তারা এআই অবকাঠামো তৈরিতে তাদের মূলধনী ব্যয় দ্বিগুণ করে ১৭৫ থেকে ১৮৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
ব্যবহারকারীর সংখ্যায় বড় লাফ
গুগল সিইও সুন্দর পিচাই জানিয়েছেন, গুগলের ‘জেমিনি অ্যাপ’ (যা চ্যাটজিপিটির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী) ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে ৭৫০ মিলিয়ন মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর মাইলফলক স্পর্শ করেছে। অক্টোবর মাসে এর সংখ্যা ছিল ৬৫০ মিলিয়ন। যদিও ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি এখনও সাপ্তাহিক ৮০০ মিলিয়ন ব্যবহারকারী নিয়ে এগিয়ে আছে, তবে জেমিনি ৩ আসার পর ব্যবহারকারীদের সম্পৃক্ততা (Engagement) উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
এআই মোড ও এন্টারপ্রাইজ প্রবৃদ্ধি
জেমিনি ৩-কে এখন গুগলের সার্চ ইঞ্জিনের ‘এআই মোড’-এ যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া করপোরেট বা এন্টারপ্রাইজ সংস্করণেও এটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সুন্দর পিচাইয়ের তথ্যমতে, গুগলের এন্টারপ্রাইজ জেমিনি বর্তমানে ৮ মিলিয়ন পেইড লাইসেন্স বা অর্থের বিনিময়ে ব্যবহারকারী অর্জন করেছে। বিশেষ করে গুগল ক্লাউড ইউনিটে আয়ের প্রবৃদ্ধি ৪৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার বড় কারণ।
ওয়াল স্ট্রিট ও শেয়ার বাজারের প্রতিক্রিয়া
অ্যালফাবেটের আকাশচুম্বী ব্যয়ের পূর্বাভাসে শুরুতে শেয়ার বাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল, শেয়ারের দাম প্রায় ৬ শতাংশ পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ক্লাউড ব্যবসায় বিশাল মুনাফা এবং এআই থেকে সরাসরি আয়ের প্রমাণ পাওয়ায় দ্রুতই বাজার স্থিতিশীল হয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গুগল প্রমাণ করেছে যে এআই খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ কেবল তখনই যৌক্তিক, যখন তা থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব।
গত বছরের শুরু থেকে, ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ (Magnificent Seven) খ্যাত মেগাক্যাপ কোম্পানিগুলোর মধ্যে অ্যালফাবেট পেছনের সারি থেকে উঠে এসে এখন শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। বর্তমানে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাজার মূলধনের কোম্পানিগুলোর তালিকায় অ্যালফাবেটের সাথে পাল্লা দেওয়ার মতো অবস্থানে আছে কেবল এনভিডিয়া এবং অ্যাপল।
অন্যদিকে, চলতি বছরের মূলধনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে সংযত সুর বজায় রাখা সত্ত্বেও, গত সপ্তাহে মাইক্রোসফটের শেয়ার দরে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ ছিল ওপেনএআই-এর ওপর কোম্পানিটির অতি-নির্ভরশীলতা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ। মাইক্রোসফট জানিয়েছে যে, অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে তাদের রেকর্ড ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তুলনায় অর্থবছর ২০২৫-এর তৃতীয় প্রান্তিকে খরচের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে আনা হবে।


