টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল ভারতে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার বা ৩,৮০০ কোটি ডলার পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভারতের নতুন অ্যান্টিট্রাস্ট বা কম্পিটিশন ল’ অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি নিয়ম ভঙ্গ করলে তার জরিমানার পরিমাণ শুধুমাত্র ভারতে হওয়া আয়ের ওপর নয়, বরং ওই কোম্পানির সারা বিশ্বের মোট আয়ের (Global Turnover) ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হতে পারে।
ভারতের প্রতিযোগিতা কমিশন (CCI) দিল্লি হাইকোর্টে এই আইনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জানিয়েছে, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে নিয়ম ভাঙা থেকে বিরত রাখতে বিশ্বব্যাপী আয়ের ওপর ভিত্তি করে জরিমানা করা প্রয়োজন।
সিসিআই-এর মতে, বড় কোম্পানিগুলোর জন্য শুধুমাত্র ভারতের আয়ের ওপর ভিত্তি করে করা জরিমানা খুবই সামান্য হতে পারে, যা তারা সহজেই বহন করতে সক্ষম। তাই জরিমানার পরিমাণ এমন হওয়া উচিত যা তাদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
অন্যদিকে, অ্যাপল এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করে আদালতকে জানিয়েছে, ভারতে হওয়া কোনো ছোটখাটো নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য সারা বিশ্বের আয়ের ওপর ভিত্তি করে জরিমানা করাটা “অযৌক্তিক এবং ভারসাম্যহীন”।
অ্যাপলের আশঙ্কা, যদি তাদের অ্যাপ স্টোর নিয়ে চলমান তদন্তে তারা দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে এই নতুন আইনের গ্যাঁড়াকলে পড়ে তাদের আকাশচুম্বী জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে। তারা দাবি করেছে, এই আইনটি মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদলে তৈরি করা হলেও ভারতীয় প্রেক্ষাপটে এটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
সিসিআই অবশ্য আদালতে পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে যে, অ্যাপল আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কমিশন জানায়, যদিও তাদের বৈশ্বিক আয়ের ওপর ভিত্তি করে জরিমানা করার ক্ষমতা রয়েছে, তবুও তারা এখন পর্যন্ত অ্যাপলের কাছে শুধুমাত্র ভারত-সংক্রান্ত আর্থিক তথ্যাদি চেয়েছে।
তবে অ্যাপল এতে আশ্বস্ত হতে পারছে না; তাদের দাবি, নতুন আইনটি কার্যকর থাকলে যেকোনো সময় তাদের ওপর বিশাল অংকের আর্থিক বোঝা চেপে বসতে পারে।
দিল্লি হাইকোর্ট আগামী ২৭ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। এই রায়ের ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে আমাজন বা গুগল-এর মতো অন্যান্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ভারতে কীভাবে ব্যবসা করবে।


