টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : ইন্টারনেট সেবাকে বিশ্বব্যাপী আরও শক্তিশালী করতে এবং মোবাইল সেবায় নতুন বিপ্লব আনতে অতিরিক্ত ৭,৫০০টি দ্বিতীয় প্রজন্মের স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের অনুমোদন পেয়েছে ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স । শুক্রবার , ৯ জানুয়ারী, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (FCC) এই গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন প্রদান করে।
এই অনুমোদনের ফলে স্পেসএক্স এখন মোট ১৫,০০০টি উন্নত প্রযুক্তির স্যাটেলাইট পরিচালনা করতে পারবে। এফসিসি (FCC) স্পেসএক্সকে তাদের স্যাটেলাইটগুলো আপগ্রেড করার এবং পাঁচটি ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে ইন্টারনেট গতি ১ জিবিপিএস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এবং সরাসরি মোবাইল ফোনে সংযোগ বা ‘ডাইরেক্ট-টু-সেল’ পরিষেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। এফসিসি-র চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার এই পদক্ষেপকে ‘গেম-চেঞ্জার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
যদিও স্পেসএক্স প্রায় ৩০,০০০ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের আবেদন করেছিল, তবে এফসিসি আপাতত ১৫,০০০ স্যাটেলাইটের অনুমোদন নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাকি ১৪,৯৮৮টি স্যাটেলাইটের অনুমোদন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, স্পেসএক্সকে অনুমোদিত অতিরিক্ত ৭,৫০০টি স্যাটেলাইটের অর্ধেক ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এবং বাকি অংশ ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কক্ষপথে স্থাপন করতে হবে।
মহাকাশে নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্টারলিঙ্ক সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৬ সাল নাগাদ তারা তাদের ৫৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা সমস্ত স্যাটেলাইটকে ৪৮০ কিলোমিটার উচ্চতায় নামিয়ে আনবে। গত ডিসেম্বরে একটি স্যাটেলাইটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মহাকাশে কিছু ধ্বংসাবশেষ তৈরি হওয়ার পর নিরাপত্তার বিষয়টি আরও জোরালো হয়েছে।
বর্তমানে মহাকাশে প্রায় ৯,৪০০টি স্যাটেলাইট নিয়ে স্পেসএক্স বিশ্বের বৃহত্তম স্যাটেলাইট অপারেটর হিসেবে আধিপত্য বিস্তার করছে। বিশ্বের মোট সক্রিয় স্যাটেলাইটের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এখন স্টারলিঙ্ক-এর নিয়ন্ত্রণে। এই একচেটিয়া আধিপত্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এ খাতে আরও প্রতিযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
আরও পড়ুন



