টেকসিঁড়ি রিপোর্টঃ দিনের অর্ধেক পার হতে না হতেই কি আইফোনের চার্জ শেষ হয়ে যাচ্ছে? চার্জার খোঁজার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে এবং ফোনের ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করতে কিছু সহজ সেটিংস পরিবর্তনই যথেষ্ট। জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘প্রপার অনেস্ট টেক’-এর বিশেষজ্ঞ টম ওয়েলসের মতে, আইফোনের মাত্র কয়েকটি সেটিংস পরিবর্তন করলে ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
চলুন জেনে নিই সেই কার্যকর উপায়গুলো:
১। ওয়াই-ফাই অ্যাসিস্ট (Wi-Fi Assist) বন্ধ রাখা
আইফোনে ‘ওয়াই-ফাই অ্যাসিস্ট’ ফিচারটি দুর্বল ওয়াই-ফাই সংকেত পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল ডেটা ব্যবহার শুরু করে। এর ফলে ফোন সবসময় শক্তিশালী সিগন্যাল খুঁজতে থাকে, যা ব্যাটারির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বাড়ির ভেতরে বা অফিসে যেখানে স্থায়ী ওয়াই-ফাই আছে, সেখানে এটি বন্ধ রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। সেটিংস: Settings > Mobile Data > একেবারে নিচে গিয়ে Wi-Fi Assist বন্ধ করুন।
২। ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ নিয়ন্ত্রণ
অনেক সময় অ্যাপ বন্ধ থাকলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে সেগুলো তথ্য আপডেট করতে থাকে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ চার্জ খরচ হয়। টম ওয়েলসের মতে, সব অ্যাপের জন্য এটি চালু রাখার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রচুর চার্জ নষ্ট করে। সেটিংস: Settings > General > Background App Refresh-এ গিয়ে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোর জন্য এটি বন্ধ করে দিন।
৩। ‘অলওয়েজ অন ডিসপ্লে’ (Always On Display)
লক স্ক্রিনে সময় বা উইজেট দেখতে সুবিধা হলেও, এই ফিচারটি ব্যাটারি দ্রুত খরচ করে। ফোনের চার্জ বাঁচাতে এবং স্ক্রিনে বাড়তি মনোযোগ এড়াতে এটি বন্ধ রাখা ভালো। সেটিংস: Settings > Display & Brightness > Always-On Display বন্ধ করুন।
৪। ডার্ক মোড ব্যবহার করা
আইফোনের ওএলইডি (OLED) স্ক্রিনে ডার্ক মোড ব্যাটারি সাশ্রয়ে জাদুর মতো কাজ করে। কারণ ডার্ক মোড চালু থাকলে স্ক্রিনের কালো পিক্সেলগুলো আসলে বন্ধ থাকে, ফলে কোনো শক্তি খরচ হয় না। এটি চোখের জন্যও আরামদায়ক।
৫। প্রাইভেসি ও লোকেশন সেটিংস
আইফোন নিয়মিত অ্যানালিটিক্স ডেটা অ্যাপলের কাছে পাঠাতে থাকে এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার লোকেশন ট্র্যাক করে। এটি ব্যাটারি ড্রেন হওয়ার বড় একটি কারণ।
অ্যানালিটিক্স বন্ধ: Settings > Privacy & Security > Analytics & Improvements-এ গিয়ে সব অপশন বন্ধ করে দিন।
লোকেশন: অনেক অ্যাপকে ‘Always’ লোকেশন পারমিশন দেওয়া থাকে। সেগুলোকে ‘While Using’ মোডে নিয়ে আসুন।
৬। লো পাওয়ার মোড (Low Power Mode)
অনেকে সবসময় ‘লো পাওয়ার মোড’ চালু রাখেন। কিন্তু টম ওয়েলস সতর্ক করে বলেন, এটি চালু থাকলে ফোনের পারফরম্যান্স কমে যায় এবং অনেক ফিচার কাজ করে না। এটি কেবল চার্জ ২০ শতাংশের নিচে নামলে ব্যবহার করা উচিত।
৭। সঠিক চার্জিং অভ্যাস
অনেকেই ভাবেন ফোন সবসময় ১০০ শতাংশ চার্জ দেওয়া ভালো। কিন্তু ব্যাটারির দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যের জন্য ৮০ বা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ দেওয়াই যথেষ্ট। আইফোনের ‘Optimised Charging’ ফিচারটি ব্যবহার করে ব্যাটারির আয়ু বাড়ানো সম্ভব।
সবশেষ: সামান্য এই পরিবর্তনগুলো আপনার আইফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে বদলে দিতে পারে। এখন থেকে আরও বেশি সময় সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা বা জরুরি প্রয়োজনে ফোন সচল রাখা হবে আরও সহজ।


