টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : বর্তমান সংঘাত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরানি হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে তাদের সাইবার অভিযান বাড়িয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা, আইন প্রয়োগকারী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মঙ্গলবার এক সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানিয়েছে ।
রয়টার্সের প্রতিবেদন মতে , সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানি হ্যাকারদের সাইবার হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে , হ্যাকাররা বিশেষ করে জনসম্মুখে উন্মুক্ত ‘প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার’ (PLC) এবং শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত ‘সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডেটা অ্যাকুইজিশন’ (SCADA) ডিসপ্লেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এই ডিভাইসগুলো সাধারণত পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত এবং সরকারি বিভিন্ন সেবার গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
মার্কিন প্রশাসনের মতে, এই সাইবার হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিঘ্ন সৃষ্টি করা। ইতোমধ্যে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই ধরণের হ্যাকিং কার্যক্রমের ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে এবং উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হ্যাকাররা সিস্টেমের ডেটা ফাইলে ঢুকে তথ্য পরিবর্তন করেছে এবং ডিভাইস থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে।
রয়টার্সের হাতে আসা ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার একটি মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইরানি হ্যাকাররা রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং রুশ হ্যাকিং গ্রুপগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। রুশ গ্রুপ যেমন— ‘Z-Pentest Alliance’ এবং ‘NoName057(16)’ এর সাথে ইরানের ‘Handala Hack’ এর যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তারা টেলিগ্রামের মাধ্যমে একে অপরের সাথে বিভিন্ন কৌশল ও হ্যাকিং টুলস বিনিময় করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এফবিআই এবং অন্যান্য সংস্থাগুলো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, এই সাইবার হুমকি এখন একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। রুশ এবং ইরানি হ্যাকারদের এই যৌথ তৎপরতা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ সেবার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তাদের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


