টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর দ্রুত অগ্রগতির ফলে চিকিৎসা শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তাঁর মতে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে এআই-এর যে জয়জয়কার শুরু হয়েছে, তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই মেডিকেল স্কুলে পড়ে ডাক্তার হওয়া নিরর্থক বা অপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে পারে।
সার্জনদের ছাড়িয়ে যাবে রোবট
পিটার ডায়ামান্ডিসের সঞ্চালনায় ‘মুনশটস’ পডকাস্টে অংশ নিয়ে মাস্ক সম্প্রতি দাবি করেন, আগামী মাত্র তিন বছরের মধ্যে এআই-চালিত রোবটগুলো মানুষের চেয়েও দক্ষভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে পারবে। মাস্কের মতে, মানুষের সীমাবদ্ধতা আছে—তারা ক্লান্ত হয়, কিন্তু মেশিনের সেই সমস্যা নেই। এছাড়া রোবট অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নির্ভুলভাবে কাজ করতে সক্ষম। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ বর্তমানের প্রেসিডেন্টের চেয়েও উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবে।”
মেডিকেল শিক্ষায় কেন অনীহা?
আলোচনার এক পর্যায়ে ডায়ামান্ডিস সরাসরি প্রশ্ন করেন, “তাহলে কি এখনকার শিক্ষার্থীদের মেডিকেল স্কুলে যাওয়া উচিত নয়?” মাস্ক কোনো দ্বিধা ছাড়াই উত্তর দেন, “হ্যাঁ, এটি এখন পয়েন্টলেস বা অর্থহীন।” তিনি ব্যাখ্যা করেন, একজন দক্ষ ডাক্তার হতে বহু বছর কঠোর পরিশ্রম ও দীর্ঘ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্য প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে, যা একজন মানুষের পক্ষে সবসময় আপডেট রাখা কঠিন। কিন্তু এআই নিমিষেই বিশাল তথ্যভাণ্ডার আয়ত্ত করতে পারে এবং লাখ লাখ কেসে তা প্রয়োগ করতে পারে।
নিউরালিঙ্ক ও অপ্টিমাস রোবটের ভূমিকা
নিজের প্রতিষ্ঠান ‘নিউরালিঙ্ক’-এর উদাহরণ টেনে মাস্ক জানান, মানুষের মস্তিষ্কে সূক্ষ্ম থ্রেড বসানোর কাজ এখন রোবটই করছে, যা মানুষের হাতের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এছাড়া টেসলার হিউম্যানয়েড রোবট ‘অপ্টিমাস’ সম্পর্কে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, বিশ্বে মোট সার্জনদের সংখ্যার চেয়েও বেশি দক্ষ অপ্টিমাস রোবট তৈরি হবে। মাস্ক একে “ট্রিপল এক্সপোনেনশিয়াল গ্রোথ” হিসেবে অভিহিত করেছেন, যেখানে সফটওয়্যার, চিপ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং—সবই একসাথে উন্নত হচ্ছে।
বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ
মাস্কের এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়লেও বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা যথেষ্ট সতর্ক। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বাস্থ্যখাত অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত একটি জায়গা। পুরোপুরি স্বায়ত্তশাসিত রোবট সার্জন চালু করার আগে বছরের পর বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং আইনি জটিলতা পার করতে হবে। এছাড়া নৈতিকতা ও আইনি দায়বদ্ধতার মতো বিষয়গুলোও এখানে জড়িত।
মানবিক স্পর্শ কি মেশিন দিতে পারবে?
অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, চিকিৎসা সেবা কেবল যান্ত্রিক দক্ষতা নয়। রোগীর সাথে ভরসার সম্পর্ক তৈরি করা, আবেগীয় সমর্থন এবং দীর্ঘমেয়াদী সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের বিকল্প মেশিন হতে পারে না। এআই যান্ত্রিক কাজগুলো নির্ভুলভাবে করতে পারলেও, চিকিৎসকের মানবিক মমত্ববোধ ও নৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মেশিন কখনোই অর্জন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক রয়ে গেছে।


