টেকসিঁড়ি রিপোর্টঃ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা ভিআর নিয়ে মেটার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়েছে। গত বছর মেটার ভিআর ইউনিট ‘রিয়েলিটি ল্যাবস’ প্রায় ১৯.১ বিলিয়ন ডলার লোকসান গুনেছে। ২০২৪ সালে এই ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৭.৭ বিলিয়ন ডলার, যা নির্দেশ করছে যে সময় বাড়ার সাথে সাথে লোকসানের পাল্লা আরও ভারী হচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুতেই মেটা তাদের রিয়েলিটি ল্যাবস থেকে প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে, যার ফলে কাজ হারিয়েছেন প্রায় ১,০০০ জন। এখানেই শেষ নয়, সিএনবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী মেটা তাদের বেশ কিছু ভিআর স্টুডিও বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে। এমনকি অফিস মিটিংয়ের জন্য তৈরি তাদের বিশেষ ‘ওয়ার্করুমস’ অ্যাপটিও বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি।
মেটার সাম্প্রতিক আয়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে রিয়েলিটি ল্যাবস আয় করেছে মাত্র ৯৫৫ মিলিয়ন ডলার, অথচ একই সময়ে লোকসান হয়েছে ৬.২ বিলিয়ন ডলার। পুরো বছরজুড়ে ইউনিটটি ২.২ বিলিয়ন ডলার আয় করলেও খরচের তুলনায় তা ছিল নগন্য।
২০২১ সালে যখন মার্ক জাকারবার্গ মেটাভার্স নিয়ে বড় ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন থেকেই বিনিয়োগকারীরা সংশয়ে ছিলেন। ৫ বছর পার হলেও সেই সংশয় কাটেনি, বরং মেটার বর্তমান ফোকাস এখন ভিআর থেকে সরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দিকে যাচ্ছে।
এত ক্ষতির মাঝেও আশার আলো খুঁজছেন মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ। তিনি জানান, ২০২৬ সালেও লোকসানের পরিমাণ গত বছরের মতোই থাকবে, তবে এটিই হতে পারে লোকসানের সর্বোচ্চ সীমা। এরপর থেকে ধীরে ধীরে ক্ষতি কমে আসবে বলে তিনি আশা করেন।
জাকারবার্গ বলেন, “আমরা এখন আমাদের বিনিয়োগের বড় অংশ চশমা (Smart Glasses) এবং পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি ‘হরাইজন’ অ্যাপটিকে মোবাইলে সফল করা এবং ভিআর-কে একটি লাভজনক ইকোসিস্টেমে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
আরও পড়ুন


