টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : প্রশিক্ষণ তথ্যের নতুন উৎস আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআইকে মানুষের মতো দক্ষ করে তুলতে এখন আর কেবল ইন্টারনেটের তথ্যে ভরসা করতে পারছে না টেক জায়ান্টরা। এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং ডাটা কোম্পানি ‘হ্যান্ডশেক এআই’ তাদের চুক্তিবদ্ধ কর্মীদের কাছে অতীত এবং বর্তমান কাজের বাস্তব উদাহরণ বা ‘রিয়েল-ওয়ার্ল্ড ডেটা’ দাবি করছে।
মূলত পেশাদার জগতের জটিল কাজগুলো কীভাবে এআই দিয়ে নিখুঁতভাবে করানো যায়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওপেনএআই তাদের প্রেজেন্টেশনে কর্মীদের স্পষ্টভাবে বলেছে তারা যেন কেবল কাজের বর্ণনা না দিয়ে সরাসরি কাজের আউটপুট বা ফাইল জমা দেয়। এর মধ্যে থাকতে পারে ওয়ার্ড ডকুমেন্ট, পিডিএফ, পাওয়ার পয়েন্ট স্লাইড, এক্সেল শিট, এমনকি কোডিং রেপোজিটরিও। প্রতিষ্ঠানটি চায় কর্মীরা অতীতে যে কাজগুলো বাস্তবে সম্পন্ন করেছেন, সেই ফাইলগুলো সরাসরি আপলোড করুক যাতে এআই মডেলগুলো বুঝতে পারে ‘হোয়াইট কলার’ বা দাপ্তরিক কাজগুলো আসলে কীভাবে করা হয়।
ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের গোপন তথ্য সুরক্ষার জন্য ফাইল থেকে স্পর্শকাতর তথ্য মুছে ফেলতে ওপেনএআই কর্মীদের পরামর্শ দিয়েছে। এমনকি তথ্য পরিষ্কার করার জন্য তারা ‘Superstar Scrubbing’ নামক একটি বিশেষ টুল ব্যবহারের নির্দেশও দিয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা এই প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ শঙ্কিত। বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (Intellectual Property) বিষয়ক আইনজীবীদের মতে, কন্ট্রাক্টররা সব সময় গোপনীয় আর সাধারণ তথ্যের পার্থক্য বুঝতে সক্ষম নাও হতে পারেন। এর ফলে বড় বড় কোম্পানির ব্যবসায়িক গোপন নথি এআই-এর কাছে চলে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
ওপেনএআই-এর এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো এআই-কে দিয়ে মানুষের মতো জটিল দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত এবং কাজ করানো। তারা এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাতে চায় যেখানে এআই কেবল চ্যাট করবে না, বরং একজন কর্মীর মতো ফাইল তৈরি বা ডেটা অ্যানালাইসিস করতে পারবে।
যদিও বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত ওপেনএআই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, তবে টেক দুনিয়ায় এটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।



