টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও-কে নির্বাচনের জন্য গত ২০২৫ সালের মে মাসে আয়োজিত অত্যন্ত গোপনীয় ‘কনক্লেভ’ চলাকালীন এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ১৩৩ জন কার্ডিনালের মধ্যে একজনের কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া যাওয়ায় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
রোববার, ১ মার্চ, ২০২৬ প্রকাশিত একটি নতুন বইয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
ভ্যাটিকানের সিস্টিন চ্যাপেলে যখন কার্ডিনালরা তাদের প্রথম ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একটি সক্রিয় মোবাইল সিগন্যাল শনাক্ত করেন। উল্লেখ্য, বাইরের জগতের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখতে পুরো চ্যাপেলে অত্যাধুনিক জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। সিগন্যাল পাওয়ার পর তল্লাশিতে দেখা যায়, একজন বয়োজ্যেষ্ঠ কার্ডিনালের পকেটে মোবাইল ফোন রয়েছে।
‘দ্য ইলেকশন অব পোপ লিও চতুর্দশ’ (The Election of Pope Leo XIV) শীর্ষক বইটির লেখক দীর্ঘদিনের ভ্যাটিকান সংবাদদাতা জেরার্ড ও’কনেল এবং এলিসাবেটা পিকে। তারা জানান, ফোন ধরা পড়ার পর ওই কার্ডিনাল অত্যন্ত বিব্রত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন এবং দ্রুত ফোনটি জমা দেন। তবে বইটিতে ওই কার্ডিনালের নাম প্রকাশ করা হয়নি এবং তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফোনটি রেখেছিলেন কিনা, সে বিষয়েও কিছু বলা হয়নি।
ক্যাথলিক চার্চের নিয়ম অনুযায়ী, কনক্লেভে অংশগ্রহণকারী কার্ডিনালরা বাইরের পৃথিবীর সাথে কোনো যোগাযোগ না করার শপথ নেন। সম্মেলনের শুরুতে তাদের ফোনসহ সব ধরনের যোগাযোগ সরঞ্জাম জমা দিতে হয়। এই গোপনীয়তা ভঙ্গের ঘটনাকে ভ্যাটিকানের ইতিহাসে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেখক ও’কনেল বলেন, “বাস্তবতা কখনো কখনো কল্পকাহিনীর চেয়েও নাটকীয় হয়।” গত বছরের এই ঘটনাটি ভ্যাটিকানের প্রথাগত গোপনীয়তার দেওয়ালে এক আধুনিক চ্যালেঞ্জের চিত্র তুলে ধরেছে।
বইটিতে আরও জানানো হয়েছে, বর্তমান পোপ লিও (যিনি আগে মার্কিন কার্ডিনাল রবার্ট প্রেভোস্ট নামে পরিচিত ছিলেন) প্রথম দফার ভোটেই উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ দফার ভোটে ১০৮টি ভোট পেয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম পোপ হিসেবে নির্বাচিত হন।


