টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইলন মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) এর কার্যালয়ে আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে আগামী এপ্রিলে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছেন ফরাসি প্রসিকিউটররা। প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তদন্তের মূল কারণ ও অভিযোগ
প্যারিস প্রসিকিউটর অফিসের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, ইলন মাস্কের প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমের অপব্যবহার এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ডেটা সংগ্রহের অভিযোগ নিয়ে গত এক বছর ধরে তদন্ত চলছে। মূলত ‘এক্স’-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট ‘গ্রোক’ এর কার্যকারিতা নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর এই তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।
বর্তমানে এই তদন্তে যুক্ত হয়েছে আরও কিছু গুরুতর অভিযোগ :
- শিশু পর্নোগ্রাফি সম্বলিত ছবি রাখা এবং ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টতা।
- যৌন উস্কানিমূলক ‘ডিপফেক’ ভিডিও বা ছবির মাধ্যমে ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা।
- অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ডেটা প্রসেসিং সিস্টেমে প্রভাব বিস্তার বা বিকৃতি ঘটানো।
মাস্ক ও কর্মকর্তাদের তলব
আগামী ২০ এপ্রিল ইলন মাস্ক এবং সাবেক সিইও লিন্ডা ইয়াকারিনোকে শুনানির জন্য উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়াও এক্স-এর আরও কয়েকজন কর্মীকে সাক্ষী হিসেবে তলব করা হয়েছে। যদিও ফ্রান্সের বাইরে বসবাসকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সমন কার্যকর করা কঠিন, তবুও ফরাসি আইন অনুযায়ী এটি বাধ্যতামূলক। শুনানির পর কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে এই তদন্ত স্থগিত করা হবে নাকি সন্দেহভাজনদের হেফাজতে নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার পাল্টা দাবি
এই অভিযানের বিষয়ে এক্স-এর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও, এর আগে গত জুলাইয়ে ইলন মাস্ক এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তিনি ফরাসি প্রসিকিউটরদের এই পদক্ষেপকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধমূলক তদন্ত” হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। অন্যদিকে, প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, এটি একটি গঠনমূলক প্রক্রিয়া যার লক্ষ্য হলো ফরাসি ভূখণ্ডে এক্স-এর কার্যক্রমকে জাতীয় আইনের আওতায় নিশ্চিত করা।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
প্যারিস প্রসিকিউটর অফিসের সাইবার ক্রাইম ইউনিট, ফরাসি পুলিশের বিশেষ সাইবার শাখা এবং ইউরোপোল (Europol) যৌথভাবে এই তদন্ত পরিচালনা করছে। একজন আইন প্রণেতার অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে এক্স-এর পক্ষপাতদুষ্ট অ্যালগরিদম স্বয়ংক্রিয় ডেটা সিস্টেমকে বিকৃত করছে। এই ঘটনাটি বিগ-টেক এবং বাকস্বাধীনতা নিয়ে ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



