টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) আগামী বছরগুলোতে মহাকাশ প্রযুক্তিতে কোন দিকে হাঁটবে, তা নির্ধারণে অনুষ্ঠিত হলো উচ্চপর্যায়ের সংলাপ ‘Strategic Directions for BSCL in the Coming Years’।
৬ জানুয়ারী, মঙ্গলবার, রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উঠে এসেছে কৃষি, মৎস্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ব্লু-ইকোনমিতে স্যাটেলাইটের বৈপ্লবিক ব্যবহারের রোডম্যাপ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি কেবল বিনোদন বা যোগাযোগের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিতের অন্যতম হাতিয়ার। প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অপরাধ দমনে এর বহুমাত্রিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতি হ্রাস পাবে এবং জবাবদিহি বাড়বে। তিনি বিএসসিএল-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেন।
প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো বিএসসিএল লাভজনক কোম্পানিতে পরিণত হওয়ায় অভিনন্দন জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি জানান, আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কৃষি, আবহাওয়া ও বন মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট সমস্যার প্রযুক্তিগত সমাধান বের করা সম্ভব।
অন্যদিকে, বিএসসিএল চেয়ারম্যান ও সচিব আব্দুন নাসের খান জানান, আগামী বছরগুলোতে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে আরও বৈচিত্র্য এনে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে কাজ করবে কোম্পানিটি।
সংলাপে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব আবু তাহের মো. জাবের সাগরে থাকা ৩০ হাজার মাছ ধরার নৌকা ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন। কৃষি সচিব ড. মো. এমদাদ উল্ল্যাহ মিয়ান জানান, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফসলের উৎপাদন নির্ণয় ও পাহাড়ি জমির ব্যবহারে স্যাটেলাইট হবে প্রধান ভরসা। এছাড়া রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) আবুল কালাম আজাদ ‘ব্লু ইকোনমি’ বা সমুদ্র অর্থনীতিতে বিএসসিএল-এর কৌশলগত ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন আশা প্রকাশ করেন যে, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে আগামী ১০ বছরের মধ্যে বিশ্ব মহাকাশ শিল্পে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসসিএল-এর এমডি ও সিইও ড. মো. ইমাদুর রহমান।
এছাড়া দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং ও স্পেস ইন্ডাস্ট্রির সম্ভাবনা নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন।



