টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক অভিযানে ‘অ্যানথ্রোপিক’ নামক একটি স্বনামধন্য আমেরিকান এআই কোম্পানির প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই হামলার ঠিক একদিন আগেই মার্কিন প্রশাসন খোদ ওই কোম্পানিটিকে ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ বা কালো তালিকাভুক্ত করেছিল।
আল জাজিরার ‘ডিজিটাল ডিলেমা’ সিরিজের প্রতিবেদনে যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই’র বিতর্কিত ব্যবহার নিয়ে উঠে এসেছে বিস্তারিত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন ইরানের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং সামরিক পরিকল্পনায় অ্যানথ্রোপিকের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। অথচ অ্যানথ্রোপিক কোম্পানিটি শুরু থেকেই তাদের তৈরি এআইকে যুদ্ধ বা কোনো প্রকার প্রাণঘাতী কাজে ব্যবহার করার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছিল।
আল জাজিরার প্রতিনিধি লিন এনগুয়েন ব্যাখ্যা করেছেন যে, পেন্টাগন এবং বেসরকারি টেক কোম্পানিগুলোর মধ্যে আদর্শিক লড়াই চলছে। কোম্পানিগুলো চায় তাদের প্রযুক্তি মানবিক কাজে ব্যবহৃত হোক, কিন্তু পেন্টাগন একে যুদ্ধের ময়দানে কৌশলগত সুবিধা হিসেবে দেখতে চায়।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যেন তারা সামরিক কাজে সহযোগিতা করে। এরই ধারাবাহিকতায় অ্যানথ্রোপিকের সাথে সরকারের দূরত্ব তৈরি হয় এবং কোম্পানিটিকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা বা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কিন্তু গোয়েন্দা তথ্য বলছে, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সেই প্রযুক্তিই সামরিক অপারেশনে গোপনে ব্যবহৃত হয়েছে।
ভিডিওটিতে একটি বড় প্রশ্ন তোলা হয়েছে , বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তৈরি প্রযুক্তির ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ কতটুকু থাকা উচিত? এবং যখন একটি কোম্পানি তার প্রযুক্তিকে ‘শান্তির জন্য’ নির্দিষ্ট করে দেয়, তখন রাষ্ট্র কি তা জোরপূর্বক ‘যুদ্ধের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে?
আল জাজিরার এই প্রতিবেদনটি স্পষ্ট করে দেয় যে, আধুনিক ভূ-রাজনীতিতে কেবল অস্ত্র নয়, বরং ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ এখন প্রধান হাতিয়ার। ইরানের ওপর পরিচালিত এই হামলায় অ্যানথ্রোপিকের এআই ব্যবহার হওয়াটা প্রমাণ করে যে, টেক কোম্পানিগুলোর নৈতিক অবস্থান এবং রাষ্ট্রীয় সামরিক প্রয়োজনের মধ্যে এক বিশাল ফাটল তৈরি হয়েছে।


