টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত ‘সিইএস ২০২৬’ (CES 2026)-এ বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সর্বাধুনিক হেলথ ওয়্যারেবল বা পরিধানযোগ্য স্বাস্থ্য প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে। গ্লুকোজ মনিটর, রক্তচাপ ট্র্যাকার থেকে শুরু করে ফিটনেস ট্র্যাকার—সবই এখন মানুষের হাতের নাগালে।
তবে এই ঝকঝকে প্রযুক্তির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ পরিবেশগত ঝুঁকি, যা নিয়ে গবেষকরা সতর্ক করেছেন ।
কর্নওয়েল ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগোর একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে , ২০৫০ সাল নাগাদ হেলথ ওয়্যারেবল ডিভাইসের চাহিদা বছরে ২০০ কোটি ইউনিটে পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমানের তুলনায় ৪২ গুণ বেশি।
গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি এখনই উৎপাদন পদ্ধতিতে পরিবর্তন না আনা হয়, তবে এই ডিভাইসগুলো থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টন ইলেকট্রনিক বর্জ্য (e-waste) তৈরি হবে। এছাড়া একই সময়ে প্রায় ১০০ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের কারণ হয়ে দাঁড়াবে এই প্রযুক্তি।
তবে আরো অবাক করার মতো তথ্য হলো, এই পরিবেশ দূষণের জন্য প্লাস্টিক প্রধান দায়ী নয়। ‘নেচার’ (Nature) জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, একটি ডিভাইসের কার্বন ফুটপ্রিন্টের ৭০ শতাংশের জন্যই দায়ী এর ‘প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড’ বা পিসিবি। বিরল খনিজ উত্তোলন এবং নিবিড় উৎপাদন প্রক্রিয়ার কারণে এই সার্কিট বোর্ডগুলো পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে।
গবেষকরা এই সংকট মোকাবিলায় দুটি প্রধান পরামর্শ দিয়েছেন:
১. স্বর্ণের মতো বিরল ও দামী খনিজের পরিবর্তে তামার মতো সাধারণ ধাতু ব্যবহার করে চিপ তৈরি করা।
২.ডিভাইসগুলোকে ‘মডুলার’ পদ্ধতিতে তৈরি করা, যাতে বাইরের অংশ নষ্ট হলেও ভেতরের সার্কিট বোর্ডটি পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
গবেষণার একজন সহ-লেখক জানান, যখন এই ডিভাইসগুলো বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ ব্যবহার করবে, তখন ছোট একটি নকশা পরিবর্তনও বড় ধরণের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই প্রসংগে গবেষণার প্রাসঙ্গিকতায় বর্তমান সময়ের কিছু নতুন ট্রেন্ড হচ্ছে –
বায়োডিগ্রেডেবল সেন্সর: ২০২৬ সালের সিইএস-এ কিছু স্টার্টআপ কোম্পানি এমন সেন্সর নিয়ে কাজ করছে যা নির্দিষ্ট সময় পর মাটিতে মিশে যায়। একে বলা হচ্ছে ‘ট্রানজিয়েন্ট ইলেকট্রনিক্স’ (Transient Electronics)।
শক্তি সঞ্চয়ে নতুনত্ব: এখন অনেক ডিভাইসে ব্যাটারির বদলে ‘বডি হিট’ বা শরীরের তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ক্ষতিকারক লিথিয়াম ব্যাটারির প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিচ্ছে।
রিসাইক্লিং রোবট: অ্যাপল এবং স্যামসাংয়ের মতো কোম্পানিগুলো এখন এমন রোবট তৈরি করছে যা ক্ষুদ্র ওয়্যারেবল ডিভাইসগুলো থেকে সূক্ষ্ম সার্কিট বোর্ড আলাদা করতে পারে, যা আগে সাধারণ প্রক্রিয়ায় করা প্রায় অসম্ভব ছিল।



