টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : সৌদি আরবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের অভাবনীয় প্রসারের মধ্যে নিজেদের সৌদি ব্যবসা নিয়ে বড়সড় কৌশলগত পরিবর্তনের কথা ভাবছে ডেটা-সেন্টার কোম্পানি কোয়ান্টাম সুইচ তামাসুক (QST)।
সংশ্লিষ্ট চারজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কোম্পানিটি তাদের সৌদি আরবের ব্যবসা সরাসরি বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে।
পুরো বিষয়টি তদারকি ও পরামর্শ প্রদানের জন্য তারা আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান রথচাইল্ড (Rothschild)-কে নিয়োগ দিয়েছে। এই চুক্তির ফলে ব্যবসাটির মূল্য ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) ডলারের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। বৈশ্বিক বড় বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মধ্যপ্রাচ্যের এই উদীয়মান এআই বাজারে নিজেদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে এই চুক্তির প্রতি গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছে।
কিউএসটি মূলত সৌদি আরবের অবকাঠামো উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান তামাসুক এবং যুক্তরাজ্যের কোয়ান্টাম সুইচ-এর একটি যৌথ উদ্যোগ। বর্তমানে সৌদির দাম্মামে তাদের দুটি ডেটা সেন্টার চালু রয়েছে । যেগুলি প্রায় ৯,০০০ বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহের সমান সক্ষমতা রাখে।
৩০০ মেগাওয়াট ডেটা সেন্টার তৈরির জন্য সৌদি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাথে তারা চুক্তি করেছে। কোয়ান্টাম সুইচ এবং তামাসুকের যৌথ উদ্যোগের সাথে মন্ত্রণালয় চুক্তি স্বাক্ষর করে। নতুন কোম্পানিটি আগামী পাঁচ বছরে বছরে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। এছাড়া আরও বেশ কিছু ভবিষ্যৎ প্রকল্প তাদের হাতে রয়েছে।
এই ডেটা সেন্টারগুলো মূলত হাইপারস্কেল (অত্যন্ত বড় পরিসরের) গ্রাহকদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হবে। তবে এর পাশাপাশি এখানে সরকারি ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্পও পরিচালিত হবে, যার মধ্যে ‘সৌদি ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ পয়েন্ট’ স্কিম অন্যতম। এছাড়া সৌদি সরকারের বিভিন্ন ডিজিটাল কার্যক্রমের জন্য এটি ‘কোলোকেশন’ বা সার্ভার রাখার স্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হবে।
যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (MCIT) এবং কিউএসটি (QST) যৌথভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস খুঁজে বের করা ও তা নিশ্চিত করার কাজ করবে। উভয় পক্ষই বর্তমানে ডেটা সেন্টারগুলোতে সৌর বিদ্যুৎ (Solar PV) সুবিধা সংযুক্ত করার সম্ভাব্যতা যাচাই করছে।
সৌদি আরবের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বাসাম আল-বাসাম বলেন, আমরা কিউএসটি-কে ধন্যবাদ জানাই কারণ তারা আমাদের জন্য একটি নিখুঁত সমন্বয় নিয়ে এসেছে, যাদের রয়েছে বিশ্বমানের ডেটা সেন্টার পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের দক্ষতা। একইসাথে সেরা কাজের প্রতি তাদের অঙ্গীকার এবং টেকসই বিনিয়োগের লক্ষ্য প্রশংসনীয়। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, এই নতুন ডেটা সেন্টার গুলো আমাদের রাজ্যের ‘গ্রিন ডিজিটালাইজেশন’ পরিকল্পনাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।”
কোয়ান্টাম সুইচ (Quantum Switch)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও টিম বাউট্রি যোগ করেন, “সৌদি আরব রাজ্যের পক্ষ থেকে এই চুক্তিটি পেয়ে আমরা সম্মানিত। ৪০ লক্ষ বর্গফুটেরও বেশি ডেটা সেন্টারের নকশা, নির্মাণ এবং পরিচালনার মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা এর চ্যালেঞ্জগুলো বুঝি। যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এই কৌশলগত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সঠিক সমাধান খুঁজে বের করার সক্ষমতা আমাদের আছে।”
সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো বর্তমানে তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। সুলভ মূল্যে জ্বালানি এবং পর্যাপ্ত জমি থাকায় গুগল, মাইক্রোসফট এবং মেটার মতো টেক জায়ান্টদের আকৃষ্ট করাই দেশগুলোর মূল লক্ষ্য।
শুধু সৌদি আরব নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতেও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তুঙ্গে। গত বছর কেকেআর (KKR) দুবাই-ভিত্তিক গালফ ডেটা হাবে অংশীদারিত্ব কিনেছে এবং সিলভার লেক বিনিয়োগ করেছে খাজনা ডেটা সেন্টারে। তবে এই জোয়ারের মাঝেও ডাটা গভর্নেন্স, উন্নত চিপের সহজলভ্যতা এবং বিশ্বমানের মেধা ধরে রাখার মতো কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে।


