টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : টেলিকম অপারেটর বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ‘ভিওন’ (VEON) বাংলাদেশের বাজারে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। তারা রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটকের সাথে একীভূত হওয়ার (merger) প্রস্তাব দিয়েছে এবং একই সাথে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এ বিনিয়োগ বা সেটি অধিগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
টেলিটকের সাথে জোট: বাংলালিংক টেলিটকের সাথে একীভূত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলালিংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ইয়োহান হেন্ড্রিক মার্টিনাস বুস এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। তাদের লক্ষ্য হলো—বাংলালিংকের ব্যবসায়িক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা এবং টেলিটকের সরকারি সুবিধা ও স্পেকট্রাম সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশের টেলিকম খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা। এতে গ্রামীণ এলাকায় নেটওয়ার্ক কভারেজ বাড়বে এবং টাওয়ার শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে অবকাঠামো খরচ কমবে।
নগদ অধিগ্রহণে আগ্রহ: ভিওন নগদ-এ কৌশলগত বিনিয়োগ বা এটি অধিগ্রহণের জন্য আগ্রহী। চিঠিতে বলা হয়েছে, নগদের দ্রুত প্রবৃদ্ধি এবং বিশাল ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের কারণে এটি তাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নত করতে চায়।
বিটিসিএল-এর সাথে অংশীদারিত্ব: বাংলালিংক বিটিসিএল-এর সাথেও অংশীদারিত্ব করতে চায়। এর মাধ্যমে তারা ভয়েস, ডেটা এবং আইপিটিভি’র মতো সেবাগুলো একসঙ্গে (bundled services) গ্রাহকদের দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
স্টারলিংক ও অন্যান্য: ভিওন স্টারলিংকের সহযোগিতায় বাংলাদেশে ‘ডাইরেক্ট-টু-সেল’ স্যাটেলাইট সেবা চালু করতে চায়, যা দুর্গম এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেবে। এছাড়া তারা নেটওয়ার্কের মান উন্নত করতে নতুন স্পেকট্রাম কেনার আগ্রহও প্রকাশ করেছে।
নগদ বর্তমানে একটি মালিকানা জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) গত বছর নগদ বিক্রির জন্য পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করলেও মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তা আটকে আছে। এদিকে, মালয়েশিয়ার আকিয়াটা, জাপানের কেডিডিআই (KDDI) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কনাই-এর মতো আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোও নগদ-এ বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বাংলালিংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব পদক্ষেপ সরকারের নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।


