টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : ইরান গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘নেটব্লকস’ জানিয়েছে, দেশটির জাতীয় ইন্টারনেট সংযোগ সাধারণ সময়ের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে। দ্বিতীয় সপ্তাহে যাওয়া এই ব্ল্যাকআউট ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনকে স্থবির করে দিয়েছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং বিমান হামলার পরপরই এই শাটডাউন শুরু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ তথ্য বাইরে যাওয়া রোধ করতে এবং সম্ভাব্য জনবিক্ষোভ দমাতে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে সাইবার হামলার কথা বলা হচ্ছে, তবে নেটব্লকস একে পরিকল্পিত সরকারি সেন্সরশিপ হিসেবেই চিহ্নিত করেছে।
ইন্টারনেট না থাকায় ইরানের ৯ কোটিরও বেশি মানুষ বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলে জরুরি সেবা, ব্যাংকিং এবং সাধারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় যুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা ও সরিয়ে নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো পাচ্ছে না।
সিএনবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সরকার কেবল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা অনুগত ব্যক্তিদের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারের বিশেষ সুবিধা চালু রেখেছে। সাধারণ নাগরিকদের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ রেখে সরকার তথ্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতেও দেশটিতে একই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট দেখা গিয়েছিল।
সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, ইরানও সম্ভবত সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে পাল্টা জবাব দেবে। এই আক্রমণগুলো হয় সরাসরি দেশটির সরকার পরিচালনা করবে, অথবা তাদের সাথে যুক্ত বিভিন্ন প্রক্সি (সহযোগী) গোষ্ঠীগুলো পরিচালনা করবে।
সিএনবিসি-র সাথে শেয়ার করা একটি বিবৃতিতে ক্রাউডস্ট্রাইকের (CrowdStrike) ‘হেড অফ কাউন্টার অ্যাডভারসারি অপারেশনস’ অ্যাডাম মেয়ার্স বলেছেন, ইরানের পক্ষের হ্যাকাররা বর্তমানে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের জন্য রেকি করছে এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা সিস্টেম অচল করে দেওয়ার জন্য আক্রমণ শুরু করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন যে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগের অভাব যুদ্ধের কুয়াশা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।


