টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে মহাকাশে একাধিপত্য বজায় রাখলেও, চীন বর্তমানে দ্রুত গতিতে তাদের সেই অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চীন নিজেকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ‘স্পেস পাওয়ার’ বা মহাকাশ শক্তিতে রূপান্তর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
চীন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। যেখানে গত ৫০ বছরে কোনো মানুষ চাঁদে যায় নি, সেখানে চীন তাদের ‘মেংঝু’ মহাকাশযান এবং ‘লং মার্চ ১০’ রকেটের মাধ্যমে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে চায়।
চীন ইতিমধ্যেই তাদের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন ‘তিয়ানগং’ (Tiangong) সফলভাবে পরিচালনা করছে, যা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে, চীন এই এক বছরে ৯০টিরও বেশি উৎক্ষেপণের মাধ্যমে কক্ষপথে উৎক্ষেপণের জাতীয় রেকর্ড স্থাপন করে।
বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতে চীনা বিনিয়োগ, যার মধ্যে বেসরকারি ও সরকারি উৎসও অন্তর্ভুক্ত, ২০১৫ সালে ৩৪০ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে প্রায় ৩.৮১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
স্পেস-এক্সের মতো চীনও এখন তাদের রকেটগুলো পুনরায় ব্যবহারের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। সম্প্রতি তারা সমুদ্রে রকেট ল্যান্ডিংয়ের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে।
শুধু চাঁদ নয়, মঙ্গল গ্রহ থেকে পাথরের নমুনা সংগ্রহ এবং গ্রহাণু গবেষণাতেও (Tianwen-2 মিশন) চীন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা-র অনেক বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং বাজেটের কারণে যুক্তরাষ্ট্র তার অগ্রগামিতা হারাতে পারে। নাসার বর্তমান ‘আর্টেমিস’ (Artemis) মিশন বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে যাওয়ায় চীনের আগে আমেরিকার চাঁদে পৌঁছানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লড়াই কেবল বিজ্ঞানের নয়, বরং এটি ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াই। যে দেশ মহাকাশে আধিপত্য বিস্তার করবে, তারাই ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির মানদণ্ড এবং অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণ করবে।


