টেকসিঁড়ি রিপোর্ট: মেটা (ফেসবুকের মূল কোম্পানি) তাদের বিশাল সাবমেরিন কেবল প্রকল্প ‘২ আফ্রিকা’র কাজ স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কেবল জাহাজগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজ করতে পারছে না। ফলে আধুনিক ইন্টারনেট অবকাঠামো তৈরির এই মেগা প্রজেক্টটি বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এটিই প্রথম নয়, এর আগে লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণের কারণেও এই প্রকল্পের কাজ চার মাস আগে একবার বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। লোহিত সাগরের বিকল্প হিসেবে পারস্য উপসাগরকে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হলেও বর্তমান যুদ্ধের কারণে সেখানেও কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
‘২আফ্রিকা’ বিশ্বের দীর্ঘতম ফাইবার-অপ্টিক কেবল সিস্টেম হওয়ার কথা যা প্রায় ৪৫,০০০ কিলোমিটার। এটি সম্পন্ন হলে আফ্রিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার দেশগুলোতে অত্যন্ত দ্রুতগতির এবং সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সেবা পৌঁছানো সম্ভব হতো। মেটা-র ধারণা ছিল, এই প্রকল্পের মাধ্যমে আফ্রিকার জিডিপি ৩৬.৯ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পাবে।
মেটা-র এই প্রকল্পের একটি বড় অংশ হলো ‘Pearls’ সেকশন, যা পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে (যেমন: ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক) এবং পাকিস্তান ও ভারতকে আফ্রিকার সাথে যুক্ত করার কথা ছিল। ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকার মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এই অংশে কেবল বসানোর কাজ এখন অনির্দিষ্টকালের জন্য থমকে গেছে।
কেবল বসানোর দায়িত্বে থাকা কোম্পানি ‘অ্যালকাটেল সাবমেরিন নেটওয়ার্কস’ (ASN) এই পরিস্থিতির জন্য ‘ফোর্স মেজিউর’ (অনিবার্য পরিস্থিতি) ঘোষণা করেছে। মানে হলো, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তারা এখন আর এই অঞ্চলে নিরাপদে কাজ চালিয়ে যেতে পারছে না। তাদের কাজ করার জাহাজগুলো এখন সৌদি আরবের বন্দরে অবস্থান করছে।
বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মেটা ‘Project Waterworth’ নামে নতুন একটি পরিকল্পনার কথা ভাবছে। এই নতুন কেবলটি মধ্যপ্রাচ্যকে পুরোপুরি এড়িয়ে আমেরিকা, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিলকে যুক্ত করবে। তবে এটি সম্পন্ন হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে।


