টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : সব সমস্যার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী এআই মডেলের প্রয়োজন হয় না, মাইক্রোসফটের এআই-নির্ভর কর্মীদের জন্য সত্য নাদেলা দিলেন এই বার্তা ।
‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস” এর “হার্ড ফর্ক” পডকাস্টের একটি লাইভ রেকর্ডিংয়ে মাইক্রোসফটের সিইও এই কথা বলেন। তাকে আরো জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোম্পানির ভেতরে কী পরিমাণে টোকেনম্যাক্সিং হচ্ছে?
সহ-উপস্থাপক কেসি নিউটন প্রশ্নটি শেষ করার আগেই নাদেলা বলেন, “অনেকটা।” “আমিও একজন টোকেনম্যাক্সার, এটা নেশার মতো,” নাদেলা বললেন। “কিন্তু নতুনত্বের আকর্ষণ কমে গেলে আপনাকে একটু থেমে ভাবতে হবে, ‘আমি আসলে কী তৈরি করার চেষ্টা করছি?'” যুক্ত করলেন নাদেলা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির পেছনে বিপুল খরচ এবং এর বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত আয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে বড়সড় নীতিগত পরিবর্তনের দিকে হাঁটছে মাইক্রোসফট।
নির্ভরযোগ্য অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং সাম্প্রতিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা কোম্পানিটির ভেতরে চলতে থাকা “টোকেনম্যাক্সিং” (Tokenmaxxing) বা নির্বিচারে এআই টোকেন ও কম্পিউটেশনাল পাওয়ার খরচের সংস্কৃতিতে লাগাম টানতে শুরু করেছেন।
টেকক্রাঞ্চের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এআই মডেলগুলোর পেছনে অন্ধের মতো বিনিয়োগ করার চেয়ে এখন বাস্তবসম্মত কার্যকারিতা ও মুনাফার (ROI) দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে টেক জায়ান্টটি।
টোকেনম্যাক্সিং’ (Tokenmaxxing) কী?
সহজ ভাষায়, এআই বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (যেমন GPT-4) যেভাবে শব্দ বা অক্ষরের অংশ প্রসেস করে, সেটিকে টোকেন বলা হয়। যত বেশি ডেটা বা জটিল কাজ এআই-কে দিয়ে করানো হয়, তত বেশি টোকেন এবং ক্লাউড কম্পিউটিং পাওয়ার (GPU) খরচ হয়।
টেক ইন্ডাস্ট্রিতে ‘টোকেনম্যাক্সিং’ বলতে বোঝানো হচ্ছিল— যে কোনো মূল্যে এআই-এর ক্ষমতা সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়া, যেখানে খরচের হিসাবকে পাত্তাই দেওয়া হচ্ছিল না। মাইক্রোসফটের ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রোডাক্ট টিমগুলো এতদিন ধরে তাদের প্রতিটি ফিচারে বড় বড় এআই মডেল ব্যবহার করে আসছিল, যার কারণে ক্লাউড সার্ভারের ওপর প্রচণ্ড চাপ এবং খরচ বাড়ছিল।
খরচে লাগাম ও বাজেট নিয়ন্ত্রণ (Reining in Spending): মাইক্রোসফট তাদের বিভিন্ন এআই প্রজেক্ট, বিশেষ করে ‘Copilot’ (কোপাইলট) এর পেছনে যে পরিমাণ জিপিইউ ও ক্লাউড কম্পিউটিং পাওয়ার বরাদ্দ দিচ্ছিল, সত্য নাদেলা সেখানে কঠোর সীমা নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। এখন থেকে প্রতিটি টিমকে দেখাতে হবে যে তাদের এআই ফিচারগুলো আসলেই কোম্পানির রাজস্ব বাড়াতে সাহায্য করছে কি না।
ছোট এবং সাশ্রয়ী এআই মডেলের দিকে ঝুঁকছে কোম্পানি: সব কাজের জন্য বিশাল এবং ব্যয়বহুল ওপেনএআই (OpenAI) মডেল ব্যবহার করার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসছে মাইক্রোসফট। এর পরিবর্তে তারা নিজস্ব Phi-3 বা এই জাতীয় স্মল ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (SLM) ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। এগুলো চালাতে খরচ অনেক কম কিন্তু নির্দিষ্ট কাজের জন্য বেশ কার্যকরী।
ওয়াল স্ট্রিট ও বিনিয়োগকারীদের চাপ: বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে মাইক্রোসফটের কাছে জানতে চাচ্ছিল— এআই-এর পেছনে কোটি কোটি ডলার খরচ করার পর সেখান থেকে লাভ কবে আসবে?
সত্য নাদেলার এই নতুন পদক্ষেপ মূলত ওয়াল স্ট্রিটকে আশ্বস্ত করার জন্য, যাতে প্রমাণ করা যায় মাইক্রোসফট শুধু এআই-এর পেছনে টাকা ওড়াচ্ছে না, বরং একটি টেকসই ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করছে।


