টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : রাশিয়া তাদের ইন্টারনেট ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো করেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মস্কো এবং সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো বড় শহরগুলোতে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ক্রেমলিন এখন নতুন ‘হোয়াইট লিস্ট’ (Whitelist) ব্যবস্থা কার্যকর করার পরীক্ষা চালাচ্ছে। এই ব্যবস্থার আওতায় সাধারণ নাগরিকরা শুধুমাত্র সরকারের অনুমোদন দেওয়া নির্দিষ্ট কিছু ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন। এর বাইরে বাকি সব বৈশ্বিক সাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম কার্যত বন্ধ বা ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে।
রুশ কর্তৃপক্ষ এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ এবং ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা ঠেকানোর যুক্তি দিচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি রাশিয়ার ইন্টারনেটকে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি ‘সার্বভৌম ইন্টারনেট’ বা নিজস্ব ডিজিটাল দেয়াল তৈরির চূড়ান্ত পর্যায়। এর ফলে সাধারণ মানুষের তথ্য পাওয়ার অধিকার চরমভাবে সংকুচিত হচ্ছে। এমনকি সরকারি অনুমোদিত সাইটগুলো ব্যবহার করতে গিয়েও নাগরিকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
এই ক্র্যাকডাউনের অংশ হিসেবে রাশিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম (Telegram) এবং হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp)-এর ওপর বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আগামী এপ্রিলের মধ্যে টেলিগ্রাম পুরোপুরি নিষিদ্ধ হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এর পরিবর্তে সরকার নাগরিকদের ‘ম্যাক্স’ (Max) নামক একটি রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপ ব্যবহারে বাধ্য করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এই সরকারি অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি চালানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
ইন্টারনেট শাটডাউনের ফলে রাশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ই-কমার্স, রাইড শেয়ারিং অ্যাপ এবং অনলাইন ব্যাংকিং পরিষেবাগুলো স্থবির হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় মানুষ ইন্টারনেটের বিকল্প হিসেবে পুরনো দিনের পেজার বা মুদ্রিত মানচিত্রের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে।
সমালোচকরা বলছেন, ২০২৬ সালের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অস্থিরতা দমন করতেই ক্রেমলিন ইন্টারনেটের ওপর এই ‘ডিজিটাল লৌহ পর্দা’ টেনে দিচ্ছে।


