টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : ডিজিটাল পেমেন্ট জগতের জায়ান্ট পেপ্যাল (PayPal) তাদের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ‘ভেনমো’ (Venmo)-কে একটি স্বতন্ত্র ব্যবসায়িক ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলার কথা ভাবছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ কোটি ব্যবহারকারী নিয়ে ভেনমো বর্তমানে অন্যতম বৃহত্তম পিয়ার-টু-পিয়ার (P2P) পেমেন্ট নেটওয়ার্ক।
পেপ্যাল অধিগ্রহণের গুঞ্জন যখন জোরালো হচ্ছে, তখন ম্যানেজমেন্ট চাইছে তাদের অন্যতম মূল্যবান এই সম্পদ থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করতে।
সিএনবিসি-র (CNBC) প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেপ্যাল বর্তমানে ভেনমো বিভাগের প্রধান হিসেবে একজন অভিজ্ঞ ডিজিটাল ব্যাংকিং নির্বাহী খুঁজছে।
১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত পেপ্যালের ব্যবসায়িক মডেল বেশ সহজ। এটি গ্রাহকদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ লেনদেনের সুবিধা দেয় এবং ব্যবসায়ীদের অনলাইন ও অফলাইনে পেমেন্ট গ্রহণে সহায়তা করে। এই নির্ভরযোগ্যতার কারণেই বর্তমানে ২০০টিরও বেশি দেশে পেপ্যাল সক্রিয় এবং এর বাজার মূলধন ৪৫.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তবে ইলন মাস্ক এবং পিটার থিয়েলের মতো কিংবদন্তিদের হাত ধরে শুরু হওয়া এই কোম্পানিটির শেয়ার গত পাঁচ বছর ধরে বেশ ধুঁকছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আয় না হওয়া এবং বারবার ম্যানেজমেন্ট পরিবর্তনের ফলে গত পাঁচ বছরে শেয়ারের দাম প্রায় ৮১% কমেছে। এমনকি গত এক বছরেও এর দাম কমেছে ২৩%।
বর্তমান সিইও এনরিক লোরস এই পতন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। এই অবস্থায় পেপ্যালের শেয়ার কেনা কি লাভজনক হবে ?
পেপ্যালের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় কেন প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলো একে নিয়ে আগ্রহী। ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে (Q4) কোম্পানিটি রাজস্ব ও আয়ের প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলেও, ডিজিটাল পেমেন্ট খাতে তারা এখনো অত্যন্ত শক্তিশালী। গত ১০ বছরে পেপ্যালের রাজস্ব ও আয়ের গড় বার্ষিক বৃদ্ধির হার (CAGR) ছিল যথাক্রমে ১৩.৬২% এবং ১৫.৬০%।
তাছাড়া, চতুর্থ প্রান্তিকে আগের বছরের তুলনায় রাজস্ব ও আয় উভয়ই বেড়েছে। নিট রাজস্ব ৪% বেড়ে ৮.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং মোট লেনদেনের পরিমাণ (TPV) ৯% বেড়ে হয়েছে ৪৭৫.১ বিলিয়ন ডলার। সক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যাও ১.১% বেড়ে ৪৩৯ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। আয় প্রতি শেয়ারে (EPS) ৩% বৃদ্ধি পেয়ে ১.২৩ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও এটি প্রত্যাশিত ১.২৯ ডলারের চেয়ে সামান্য কম, তবে গত নয়টি প্রান্তিকের মধ্যে এটি মাত্র দ্বিতীয়বার লক্ষ্যমাত্রা মিস করার ঘটনা।
বছরের শেষে পেপ্যালের হাতে নগদ অর্থ ছিল প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার এবং কোনো স্বল্পমেয়াদী ঋণ নেই, যা কোম্পানির তারল্য নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর করে। এছাড়া কোম্পানিটি ১.৫ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার পুনরায় কিনেছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।
বর্তমানে পেপ্যালের শেয়ারের মূল্য বেশ সস্তা বা ‘আন্ডারভ্যালুড’ অবস্থায় রয়েছে। এর আর্থিক অনুপাতগুলো (P/E, P/S) খাতের অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় বেশ নিচে। তবে পেপ্যালকে এখন বেশ কঠিন প্রতিযোগিতার মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শপিং অভিজ্ঞতায় ‘এজেন্টিক এআই’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার অনলাইন লেনদেনের প্রচলিত বিশ্বাস ও পদ্ধতি বদলে দিতে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, পেপ্যালের উচ্চ মুনাফাদানকারী ‘ব্র্যান্ডেড চেকআউট’ সেকশনটি কিছুটা চাপে রয়েছে। অন্যদিকে ভেনমো বা ডেবিট কার্ডের মতো কম মুনাফার খাতগুলো দ্রুত বাড়ছে, যার ফলে সামগ্রিক লভ্যাংশের হার ১.৭৩% থেকে কমে ১.৬৫% এ নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোম্পানিটি তাদের ব্র্যান্ডেড চেকআউট সেবার মান বাড়াতে এবং প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নতুন কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।


