টেকসিঁড়ি রিপোর্টঃ বাংলাদেশের টেলিকম খাতে এক দৃশ্যমান পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোবাইল ও ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যায় বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে, যা গত ছয় মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের টেলিকম বাজারে বড় ধরনের ধস লক্ষ্য করা গেছে। কেন এই পতন? বিস্তারিত পড়ুন আমাদের প্রতিবেদনে।
গ্রাহক সংখ্যার পরিসংখ্যান
২০২৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে মোট মোবাইল সাবস্ক্রাইবার ছিল ১৮৮.৮৭ মিলিয়ন। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষে এই সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে ১৮৫.৮ মিলিয়নে। অর্থাৎ, মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে প্রায় ৩ মিলিয়নের বেশি সক্রিয় সংযোগ কমেছে। একই চিত্র দেখা গেছে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও। একই সময়ে ইন্টারনেট সাবস্ক্রিপশন ১৩৫.৯৯ মিলিয়ন থেকে কমে ১২৮.৯৯ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে।
অপারেটরদের বর্তমান অবস্থা (জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত):
গ্রামীণফোন:৪৫% মার্কেট শেয়ার নিয়ে শীর্ষে আছে তারা (গ্রাহক ৮৪.৩৩ মিলিয়ন), যেখানে ০.২০% প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
রবি আজিয়াটা: ৩১% শেয়ার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে (গ্রাহক ৫৭.২৪ মিলিয়ন), তবে তাদের গ্রাহক কমেছে ০.২৮%।
বাংলালিংক: ২০% শেয়ার ধরে রাখলেও তাদের গ্রাহক সংখ্যা কমেছে ০.৩২% (বর্তমান গ্রাহক ৩৭.৪০ মিলিয়ন)।
টেলিটক: ৪% মার্কেট শেয়ার নিয়ে সবার নিচে থাকলেও তারা ০.৪৪% প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে (গ্রাহক ৬.৮৩ মিলিয়ন)।
টেলিকম বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন কেবল সংখ্যাগত হ্রাস নয়, বরং এটি ব্যবহারকারীদের আচরণ এবং বাজার পরিস্থিতির এক গভীর পরিবর্তনের প্রতিফলন। গ্রাহকদের একাধিক সিম ব্যবহারের প্রবণতা কমে আসা, অর্থনৈতিক বাস্তবতায় খরচের লাগাম টানা কিংবা ডিজিটাল অভ্যাসের পরিবর্তন, এই সবকিছুরই প্রভাব পড়ছে পরিসংখ্যানে।
অপারেটর, ব্র্যান্ড এবং বাজার বিশ্লেষকদের জন্য এই পরিস্থিতিটি এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহক ধরে রাখতে এবং নতুন করে বাজার চাঙ্গা করতে সামনে কোম্পানিগুলো কী ধরনের কৌশল নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


