টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : নাসার আর্টেমিস-২ (Artemis II) মিশনের মাধ্যমে এক নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে। মহাকাশযান চালিয়ে চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন ভিক্টর গ্লোভার, যিনি ইতিহাসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে এই অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তাঁর এই সফল সফর বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ১১ এপ্রিল ২০২৬-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে এই কথা।
ফ্লোরিডার ওর্লান্ডোর বাসিন্দা এবং নাসার অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার নায়া বাটলার-ক্রেইগ জানান, ১২ বছর বয়সে মে জেমিসনের (মহাকাশে যাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী) ছবি দেখে তিনি মহাকাশচারী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। আজ ভিক্টর গ্লোভারের সাফল্য দেখে তাঁর মতো আরও অনেক তরুণ-তরুণী বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে, বর্ণ বা গায়ের রঙ কোনো সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না। ভিক্টর গ্লোভারের এই সাফল্য কেবল বিজ্ঞানের জয় নয়, বরং এটি বহু দশকের বঞ্চনা কাটিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
ভিক্টর গ্লোভার এর আগেও ২০২০ সালে স্পেস-এক্স (SpaceX) এর ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে সাড়ে ৫ মাস কাটিয়েছিলেন। তবে এবারের আর্টেমিস-২ মিশন ছিল আরও চ্যালেঞ্জিং এবং তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ৪ জন ক্রু মেম্বারের একজন হিসেবে পৃথিবী থেকে চাঁদের কক্ষপথ সফলভাবে প্রদক্ষিণ করেন। গ্লোভার নাসা কর্তৃক এ পর্যন্ত নির্বাচিত ২০ জন কৃষ্ণাঙ্গ মহাকাশচারীর মধ্যে অন্যতম।
১০ দিনের মিশন শেষে গ্লোভার এবং তাঁর সহকর্মীরা গত শুক্রবার প্রশান্ত মহাসাগরে সান ডিয়েগো উপকূলের কাছে অবতরণ করেন। এই মিশনটি ২০২৮ সালে চাঁদের বুকে পুনরায় মানুষের পদার্পণের পথ সুগম করল। উল্লেখ্য যে, ১৯৭২ সালের পর থেকে মানুষ আর চাঁদে পা রাখে নি।
নায়া বাটলার-ক্রেইগের মতে, গ্লোভারের এই সফর প্রমাণ করে যে “আকাশই কোনো সীমানা নয়”। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে ধৈর্য এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে যে কোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। গ্লোভারের এই বীরত্বপূর্ণ সফর আগামী প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের এবং মহাকাশচারীদের জন্য এক অন্তহীন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।


