টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : ফেইসবুক এবং ইউটিউবে ক্ষতিকর কিন্তু পপুলার (জনপ্রিয়) ভিডিওগুলো বন্ধ করা বা এগুলোর বিস্তার ঠেকানো বেশ জটিল, কারণ প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যালগরিদম বেশি ভিউ বা এঙ্গেজমেন্ট হওয়া কনটেন্টকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়।
তবে ব্যবহারকারী হিসেবে এবং সামাজিকভাবে এই ধরনের ভিডিও বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করার বেশ কিছু কার্যকর উপায় রয়েছে। উপায়গুলোকে আমরা দুটি ভাগে ভাগ করতে পারি : ব্যক্তিগত পর্যায়ে (নিজের ফিড সুরক্ষিত রাখা) এবং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে (ভিডিওটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরানো)।
১. ব্যক্তিগত পর্যায়ে (নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষায়)
আপনার নিজের বা সন্তানের অ্যাকাউন্টে যেন এই ধরনের ভিডিও না আসে, সেজন্য নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন:
- রিপোর্ট করা (Report/Flag): এটি সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। ভিডিওর পাশে থাকা থ্রি-ডট (
...) মেনুতে ক্লিক করে ‘Report’ অপশনে যান। ভিডিওটি কেন ক্ষতিকর (যেমন: সহিংসতা, ভুয়া তথ্য, ঘৃণা ছড়ানো, বা বাচ্চার জন্য অনুপযুক্ত) তা সুনির্দিষ্টভাবে সিলেক্ট করে রিপোর্ট করুন। অনেক বেশি রিপোর্ট পড়লে অ্যালগরিদম ভিডিওটির রিচ কমিয়ে দেয় বা মডারেটররা সেটি ডিলিট করে দেয়। - ‘নট ইন্টারেস্টেড’ এবং ‘ডোন্ট রিকমেন্ড চ্যানেল’ ব্যবহার করা: ফেইসবুক বা ইউটিউবে কোনো ক্ষতিকর ভিডিও সামনে আসলেই স্ক্রোল করে চলে যাবেন না বা রাগ দেখিয়ে কমেন্ট করবেন না (কমেন্ট করলে অ্যালগরিদম মনে করে আপনি এটিতে আগ্রহী)। বরং থ্রি-ডট মেনুতে ক্লিক করে “Not interested” অথবা “Don’t recommend channel” অপশনটি সিলেক্ট করুন। এতে অ্যালগরিদম আপনাকে আর ওই ধরনের ভিডিও দেখাবে না।
- রেস্ট্রিক্টেড মোড (Restricted Mode) চালু করা: ইউটিউবের সেটিংসে গিয়ে ‘Restricted Mode’ অন করে দিলে ক্ষতিকর বা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি কনটেন্টগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিল্টার হয়ে যায়। শিশুদের জন্য YouTube Kids অ্যাপ ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।
- প্যারেন্টাল কন্ট্রোল (Parental Controls): ফেইসবুক এবং ইউটিউব উভয় প্ল্যাটফর্মেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্টের জন্য বিশেষ সুরক্ষামূলক সেটিংস রয়েছে, যা চালু রাখলে ক্ষতিকর পপুলার ভিডিওগুলো তাদের সামনে আসে না।
২. সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে (ভিডিওর জনপ্রিয়তা কমাতে)
ক্ষতিকর ভিডিও পপুলার হওয়ার মূল কারণ হলো মানুষের কৌতুহল। এটি রুখতে যা করা দরকার:
- “নেগেটিভ এঙ্গেজমেন্ট” বন্ধ করা: কোনো ভিডিও ক্ষতিকর হলে আমরা অনেকেই রেগে গিয়ে সেখানে কমেন্ট করি, হা হা রিঅ্যাক্ট দিই কিংবা বন্ধুদের দেখানোর জন্য লিংক শেয়ার করি। ফেইসবুক ও ইউটিউবের অ্যালগরিদম শুধু দেখে যে ভিডিওতে মানুষ সময় দিচ্ছে এবং কমেন্ট করছে; তারা রাগ নাকি খুশি তা বোঝে না। ফলে ভিডিওটি আরও পপুলার হয়। তাই ক্ষতিকর ভিডিওতে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার বা রিঅ্যাক্ট করা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
- ডিজিটাল লিটারেসি বা সচেতনতা বৃদ্ধি: পরিবার ও বন্ধুদের বোঝানো যে ভিউ বা লাইক বেশি হলেই কোনো ভিডিও সঠিক বা ভালো হয় না। ক্ষতিকর কনটেন্টকে এড়িয়ে চলাই তা বন্ধ করার সেরা উপায়।
- সাইবার ক্রাইম বা বিটিআরসি (BTRC) তে অভিযোগ: ভিডিওটি যদি দেশীয় আইন, সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বা হুমকিস্বরূপ হয়, তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা বিটিআরসি (BTRC)-এর সাইবার ক্রাইম ইউনিটে লিংকসহ অভিযোগ জানানো যায়। তারা সরকারিভাবে প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে যোগাযোগ করে ভিডিওটি বাংলাদেশ থেকে ব্লক করার ব্যবস্থা নিতে পারে।
সহজ ভাষায়, ক্ষতিকর ভিডিও বন্ধ করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম হলো—দেখা মাত্রই রিপোর্ট করুন, ‘Not Interested’ চাপুন, এবং কোনো অবস্থাতেই কমেন্ট বা শেয়ার করে সেটিকে আরও পপুলার হতে সাহায্য করবেন না।


