টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের করা মামলাটি মেটা খারিজ বা বাতিল করার আবেদন করেছিল, কিন্তু মার্কিন আদালত তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা শিশুদের আসক্ত করে তোলে এবং এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলো জনগণের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগে আমেরিকার ২৯টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন।
মেটা এই মামলাটি খারিজ করার জন্য আদালতে আবেদন জানালে, ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল বিচারক ইভন গনজালেজ রজার্স সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর ফলে মেটাকে এখন এই মামলার মুখোমুখি হতেই হচ্ছে এবং আগামী আগস্ট মাসে এর বিচার (Trial) শুরু হবে।
- আদালতের সিদ্ধান্ত: বিচারক রজার্স তার রায়ে জানিয়েছেন, মেটা প্রতারণামূলক আচরণ, অন্যায্য বাণিজ্যিক চর্চা এবং ফেডারেল ‘চিলড্রেনস অনলাইন প্রাইভেসি প্রটেকশন অ্যাক্ট’ (COPPA) বা শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে—রাজ্যগুলোর এমন দাবিকে ফেলে দেওয়া যায় না।
- অভিভাবকের সম্মতি না নেওয়ার প্রমাণ: বিচারক পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন, মেটা ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি নোটিশ এবং অভিভাবকদের সঠিক সম্মতি নেওয়ার নিয়মগুলো মানেনি। এই নির্দিষ্ট বিষয়ে আদালত সরাসরি মেটার বিপক্ষেই রায় দিয়েছেন।
- রাজ্যগুলোর অভিযোগ: মামলাকারী রাজ্যগুলোর দাবি, মেটার নিজস্ব অভ্যন্তরীণ গবেষণাতেই দেখা গেছে যে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের মধ্যে বিষণ্ণতা, চরম দুশ্চিন্তা (Anxiety), অনিদ্রা এবং পড়ালেখার ক্ষতিসহ আত্মহত্যার মতো মারাত্মক প্রবণতা তৈরি করছে। অথচ মেটার কর্মকর্তারা তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি মেটার কিছু ফিচার যেমন ‘টাইম লিমিট’ টুলকে অভ্যন্তরীণ নথিতে স্রেফ একটি “পাবলিক রিলেশন স্ট্যান্ট” (লোকদেখানো প্রচার) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
- মেটার পাল্টা যুক্তি: মেটা আদালতে দাবি করেছিল যে, “সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি” চিকিৎসা বিজ্ঞানে এখনো কোনো স্বীকৃত মানসিক ব্যাধি নয়, তাই তাদের প্ল্যাটফর্ম আসক্তি ছড়াচ্ছে না—এমন দাবি মিথ্যা হতে পারে না। তারা আরও জানায়, এই অ্যাপগুলো সাধারণ দর্শকদের জন্য তৈরি, বিশেষভাবে শিশুদের লক্ষ্য করে নয়।
- বিশাল আইনি লড়াই: মেটার জন্য এই আইনি ধাক্কাটি বেশ বড়। কারণ এই একই বিচারক আরও ২,৬০০টিরও বেশি মামলার তদারকি করছেন, যা বিভিন্ন সাধারণ পরিবার, স্কুল ও স্থানীয় সরকার মেটা, গুগল (ইউটিউব), স্ন্যাপচ্যাট এবং টিকটকের বিরুদ্ধে দায়ের করেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা এই রায়কে একটি “বড় জয়” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং বলেছেন, আমেরিকার শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে ফেলার জন্য এই টেক জায়ান্টকে এবার জবাবদিহি করতে হবে।
অন্যদিকে মেটা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই অভিযোগগুলোর সাথে তীব্র দ্বিমত পোষণ করে এবং তরুণদের সুরক্ষায় তাদের অবদান আদালতে প্রমাণ করবে।


