টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেওয়া ‘গেটকিপার’ (Gatekeeper) বা বাজার নিয়ন্ত্রকের তকমা বাতিলের জন্য আইনি লড়াইয়ে নেমেছিল প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। তবে বুধবার ,৮ জুলাই, ২০২৬ ইউরোপের শীর্ষ আদালত অ্যাপলের সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ফলে অ্যাপ স্টোর এবং আইওএস (iOS) প্ল্যাটফর্মের ওপর ইইউ-এর কঠোর নিয়মকানুন বহালই থাকছে।
লুক্সেমবার্গভিত্তিক ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘জেনারেল কোর্ট’ তাদের রায়ে জানায়, “অ্যাপ স্টোর এবং আইওএস-এর ক্ষেত্রে অ্যাপলকে গেটকিপার হিসেবে ঘোষণা করার বিরুদ্ধে অ্যাপলের করা আবেদনটি আদালত খারিজ করে দিচ্ছে।”
পেছনের ঘটনা
২০২৪ সালে ইউরোপীয় কমিশন অ্যাপলের আইফোন, আইপ্যাড, ম্যাক, অ্যাপল টিভি এবং অ্যাপল ওয়াচের পাঁচটি অ্যাপ স্টোরকে ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (DMA) এর অধীনে একটি একক মূল প্ল্যাটফর্ম বা ‘গেটকিপার’ হিসেবে চিহ্নিত করে। ইইউ-এর এই নিয়মের কারণে অ্যাপল তাদের প্ল্যাটফর্মে একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রাখতে পারছিল না। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই আদালতে আপিল করেছিল অ্যাপল।
গেটকিপার’ হলে অ্যাপলকে কী কী নিয়ম মানতে হবে?
ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (DMA) অনুযায়ী কোনো কোম্পানি গেটকিপার হিসেবে চিহ্নিত হলে তাদের কিছু কঠোর নিয়ম মানতে হয়:
- তারা নিজেদের তৈরি অ্যাপ বা সার্ভিসকে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য অ্যাপের চেয়ে বেশি সুবিধা বা অগ্রাধিকার দিতে পারবে না।
- বিভিন্ন সার্ভিসের ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা ডেটা নিজেদের সুবিধামতো একত্রে মিলিয়ে ব্যবহার করতে পারবে না।
- ব্যবহারকারীদের থার্ড-পার্টি বা বিকল্প অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করার সুযোগ দিতে হবে (যা অ্যাপল আগে করতে দিত না)।
এছাড়াও অ্যাপল তাদের আইওএস (iOS) অপারেটিং সিস্টেম এবং আইমেসেজ (iMessage) নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল। তবে আদালত আইমেসেজ সংক্রান্ত অ্যাপলের আবেদনটিকে শুনানির অযোগ্য বলে গণ্য করেছে।
গেটকিপার হওয়ার শর্ত কী?
ইইউ-এর নিয়ম অনুযায়ী, ইউরোপের বাজারে কোনো কোম্পানির বার্ষিক আয় অন্তত ৭.৫ বিলিয়ন ইউরো অথবা বাজার মূলধন ৭৫ বিলিয়ন ইউরোর বেশি হলে এবং ইউরোপে প্রতি মাসে ৪.৫ কোটির বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী থাকলে তাকে ‘গেটকিপার’ হিসেবে গণ্য করা হয়। অ্যাপল এই সব শর্তের মধ্যেই পড়ে।
আদালতের এই রায়ের ফলে ইউরোপে অ্যাপলকে তাদের ইকোসিস্টেম আরও উন্মুক্ত করতে হবে এবং প্রতিযোগীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে বাধ্য থাকবে।


