টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : ভারতে স্প্যাম এবং প্রতারণামূলক কল বন্ধে টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (TRAI)-এর নেওয়া কিছু নীতিমালার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংস্থাটির সাথে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে ট্রুকলার (Truecaller)।
ট্রুকলারের দাবি, ট্রাই-এর নির্দেশ মেনে কিছু নির্দিষ্ট সিরিজের নম্বরকে স্প্যাম তালিকা থেকে মুক্ত রাখার (হোয়াইটলিস্ট) কারণে উল্টো স্প্যাম কলের উপদ্রব অনেক বেড়ে গেছে, যা ব্যবহারকারীদের বিশ্বাসের জায়গা নষ্ট করছে।
ভারতে ব্যাপক হারে বাড়তে থাকা প্রমোশনাল ও ব্যাংকিং স্প্যাম কল নিয়ন্ত্রণে ২০২৩/২০২৫ সালে ট্রাই একটি বিশেষ নিয়ম চালু করে। নিয়ম অনুযায়ী, সব ধরণের টেলিমার্কেটিং কলের জন্য ‘১৪০০’ এবং ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সেবামূলক কলের জন্য ‘১৬০০’ সিরিজের নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। একই সাথে ট্রুকলারের মতো কলার আইডি অ্যাপগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন তারা এই দুই সিরিজের কোনো নম্বরকে ‘স্প্যাম’ হিসেবে চিহ্নিত না করে, বরং সাধারণ নম্বর হিসেবে প্রদর্শন করে।
ট্রুকলারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিশিত ঝুনঝুনওয়ালা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স -এ জানান, শুরু থেকেই এই নিয়মের একতিয়ার নিয়ে তাদের মনে সংশয় থাকা সত্ত্বেও তারা ট্রাই-এর নির্দেশ মেনে নম্বরগুলো হোয়াইটলিস্ট করেছিলেন। কিন্তু এর ফলাফল হয়েছে হিতে বিপরীত। ব্যাংক এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিশেষ সিরিজের নম্বর ব্যবহার করে গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার বদলে মাত্রাতিরিক্ত ঋণ বা ক্রেডিট কার্ডের অফার (প্রমোশনাল কল) দেওয়া শুরু করেছে।
যেহেতু ট্রুকলার ট্রাই-এর নিয়মের কারণে এই নম্বরগুলোকে স্প্যাম হিসেবে ফ্ল্যাগ করতে পারছে না, তাই ব্যবহারকারীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। ফলে গ্রাহকরা এখন এই সিরিজের নম্বরগুলো থেকে আসা কল ব্যাপকভাবে এড়িয়ে চলছেন।
রিশিত জানিয়েছেন , প্রতিদিন এই দুই সিরিজের প্রায় ৫ কোটি ১০ লাখ (৫১ মিলিয়ন) কল গ্রাহকদের দ্বারা অনুত্তরিত (Unanswered) থেকে যাচ্ছে। ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ লাখেরও বেশি ১৪০০ এবং ১৬০০ সিরিজের নম্বর ম্যানুয়ালি ব্লক করছেন। গ্রাহকরা এখন ১৪০০ সিরিজের প্রায় ৮১% এবং ১৬০০ সিরিজের ৭৯% কল পুরোপুরি উপেক্ষা করছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রুকলার সম্প্রতি তাদের অ্যাপে ‘ফ্রিকোয়েন্টলি ব্লকড’ নামের একটি নতুন ব্যাজ চালু করেছে, যা হোয়াইটলিস্টেড নম্বরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হচ্ছে।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ট্রুকলারের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাই ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।
ট্রাই চাইছে ট্রুকলারের মতো থার্ড-পার্টি কলার আইডি অ্যাপগুলোকে সরাসরি তাদের নিয়মের অধীনে নিয়ে আসার আইনি ক্ষমতা।
এই বিষয়ে ট্রুকলার সিইও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন স্প্যাম ও স্ক্যাম থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি। অথচ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আমাদের ডেটা সেন্সর করে খারাপ চক্রগুলোকে স্প্যাম ছড়ানোর জন্য উন্মুক্ত মাঠ তৈরি করে দিতে চাইছে, যা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।”


