টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : ইউএস ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC) এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২২টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল যৌথভাবে প্রযুক্তি ও ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন -এর বিরুদ্ধে ২০ বিলিয়ন ডলারের মামলা দায়ের করেছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (WSJ)-এর প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রথম উঠে আসে এবং পরবর্তীতে এফটিসি আনুষ্ঠানিকভাবে এটি নিশ্চিত করে।
বিজ্ঞাপনের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানো : এফটিসি-র অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে অ্যামাজন গোপন প্রক্রিয়ার (Soft Reserves বা বিভিন্ন গোপন সারচার্জ) মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের সর্বনিম্ন নিলাম মূল্য বাড়িয়ে বিক্রেতা বা বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
গোপন সারচার্জ স্কিম: প্রায় ৭০% থেকে ৮০% বিজ্ঞাপন নিলামে অ্যামাজন হস্তক্ষেপ করে পে-পার-ক্লিক (PPC) বিজ্ঞাপনের মূল্য বাড়িয়ে দেয়। পিক শপিং সময়ে (যেমন প্রাইম ডে বা উৎসবের দিনগুলোতে) বিজ্ঞাপনের খরচ প্রায় ৫০% পর্যন্ত বেড়ে যায়।
বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ: এফটিসি-র দাবি, এভাবে প্রায় ১২ লাখ (১.২ মিলিয়ন) বিজ্ঞাপনদাতার কাছ থেকে অ্যামাজন অনৈতিক ও প্রতারণামূলকভাবে ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হাতিয়ে নিয়েছে। এই বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রায় অর্ধেকই ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী।
ভোক্তাদের ওপর প্রভাব: বিজ্ঞাপনের এই অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর চাপিয়েছে ব্যবসায়ীরা।
অভ্যন্তরীণ তথ্য গোপন রাখা
এফটিসি-র মামলার তথ্যানুযায়ী, অ্যামাজনের কর্মকর্তারা এই সারচার্জ থেকে কত অতিরিক্ত আয় হচ্ছে তা অভ্যন্তরীণভাবে ট্র্যাক করতেন। কিন্তু এটি প্রকাশ পেলে বিজ্ঞাপনদাতারা বিশ্বাস হারাবে এবং তাদের বিড (Bid) কমিয়ে দেবে—এই আশঙ্কায় বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল।
বাজারে ও শেয়ারবাজারে প্রভাব
গুগল ও মেটার পর অ্যামাজন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম। তাদের এই সর্বোচ্চ লাভজনক খাতে মামলার কারণে বড় ধাক্কা লেগেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পরই অ্যামাজনের শেয়ারের দাম ৩%-এর বেশি কমে যায়।
অ্যামাজনের প্রতিক্রিয়া –
অ্যামাজন এই মামলাকে “ভুল ও বিভ্রান্তিকর” (Misguided) বলে আখ্যা দিয়ে শক্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে :
অ্যামাজন অভিযোগ করেছে, এফটিসি পুরোনো ও বিচ্ছিন্ন কিছু ইমেইল ও ট্রেনিং মেটেরিয়াল থেকে ভুল ব্যাখ্যা তৈরি করে এই মামলাটি করেছে। অ্যামাজনের দাবি, এফটিসি ডিজিটাল বিজ্ঞাপন নিলামের প্রক্রিয়া বুঝতে ভুল করেছে।
তারা জানায়, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপনের গড় খরচ বাড়েনি (মুদ্রাস্ফীতি হিসাব করলে)। বরং প্রযুক্তি ও AI-এর উন্নতির ফলে ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হয়েছে।
অ্যামাজনের বিরুদ্ধে এফটিসি-র এটি তৃতীয় বড় আইনি পদক্ষেপ। এর আগে প্রাইম (Prime) সাবস্ক্রিপশন বাতিল করা কঠিন করা এবং গ্রাহক প্রাইভেসির নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে অ্যামাজনকে বড় অঙ্কের অর্থ জরিমানা ও নিষ্পত্তি দিতে হয়েছিল।


