টেকসিঁড়ি টিউটোরিয়ালঃ বর্তমানে সাইবার সিকিউরিটি মার্কেটে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী SIEM টুলস রয়েছে, যা বড় বড় এন্টারপ্রাইজগুলো তাদের নেটওয়ার্ক সুরক্ষায় ব্যবহার করছে। গার্টনার ম্যাজিক কোয়াড্রেন্ট (Gartner Magic Quadrant)-এর মতো শীর্ষস্থানীয় গবেষণায়ও এই টুলসগুলো বরাবরই “লিডার” হিসেবে জায়গা করে নেয়। টেকসিঁড়ি’র পাঠকদের জন্য কয়েকটি SIEM টুলের বিস্তারিত আলোচনা নিচে দেওয়া হলো:
১। Splunk Enterprise Security (Cisco)Splunk
বর্তমানে SIEM মার্কেটের অন্যতম অপ্রতিদ্বন্দ্বী লিডার। এটি মূলত একটি ডেটা অ্যানালিটিক্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে শুরু হলেও, এর “Enterprise Security” মডিউলটি সাইবার নিরাপত্তায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এর শক্তিশালী Search Processing Language (SPL) ব্যবহার করে খুব দ্রুত বিপুল পরিমাণ লগের ভেতর থেকে নির্দিষ্ট ডেটা খুঁজে বের করা যায়।কেন এর ড্যাশবোর্ডটি খুবই কাস্টমাইজেবল। যেকোনো থার্ড-পার্টি সিস্টেমের সাথে সহজেই ইন্টিগ্রেট করা যায় এবং বড় আকারের আইটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার সামলাতে এটি দারুণ কার্যকর। তবে এটি বেশ ব্যয়বহুল এবং নতুনদের জন্য এর SPL শেখা কিছুটা সময়সাপেক্ষ।
২। IBM Security QRadar
আইবিএম-এর QRadar এন্টারপ্রাইজ লেভেলের আরেকটি অত্যন্ত জনপ্রিয় SIEM সলিউশন। এটি মূলত থ্রেট ডিটেকশন এবং কমপ্লায়েন্সের জন্য দারুণভাবে পরিচিত। এর অন্যতম বড় সুবিধা হলো চমৎকার “Out-of-the-box” রুলস। অর্থাৎ সেটআপ করার পরপরই এটি অনেক ধরনের সাইবার হামলা নিজ থেকেই ধরতে পারে। এটি বিভিন্ন সোর্স থেকে আসা ডেটাকে খুব সুন্দরভাবে নরমালাইজ (Normalize) এবং কো-রিলেট করতে পারে। এছাড়া IBM Watson-এর সাহায্যে এটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে থ্রেট অ্যানালাইসিস করে থাকে। তবে এর ইউজার ইন্টারফেস (UI) আপনাদের কাছে কিছুটা পুরোনো ধাঁচের মনে হতে পারে।
৩। Microsoft Sentinel
মাইক্রোসফটের এই টুলটি সম্পূর্ণ ক্লাউড-নেটিভ (Cloud-native) একটি SIEM এবং SOAR (Security Orchestration, Automation, and Response) সলিউশন। এটি মাইক্রোসফট অ্যাজিউর (Azure) ক্লাউডের ওপর তৈরি। ফলে যারা আগে থেকেই Office 365, Active Directory বা Azure ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য এটি সেটআপ করা খুবই সহজ। এটি ক্লাউডভিত্তিক হওয়ায় কোনো সার্ভার বা হার্ডওয়্যার মেইনটেইন করার ঝামেলা নেই। এর বিল্ট-ইন অটোমেশন (SOAR) ফিচারের কারণে সিকিউরিটি টিম কোনো অ্যালার্ট পেলে ম্যানুয়ালি কাজ করার বদলে অটোমেটিক রেসপন্স সেট করতে পারে। তবে নন-মাইক্রোসফট বা অন-প্রিমিসেস (On-premises) সিস্টেমের ক্ষেত্রে ডেটা ইমপোর্ট করা কিছুটা জটিল হতে পারে।
৪। Google Security Operations (formerly Chronicle)
গুগল ক্লাউডের এই SIEM টুলটি মূলত ডেটা প্রসেসিংয়ের গতির জন্য বিখ্যাত এবং ২০২৫ সালের গার্টনার ম্যাজিক কোয়াড্রেন্টেও এটি “লিডার” হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। গুগলের কোর ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যবহার করায় এটি পেটাবাইট (Petabytes) সাইজের ডেটার মধ্যেও কয়েক সেকেন্ডে সার্চ রেজাল্ট দিতে পারে। এর প্রাইসিং মডেলটি দারুণ, অনেক ক্ষেত্রেই ডেটা ভলিউমের ওপর ভিত্তি করে টাকা কাটে না, বরং এমপ্লয়ি হিসেবে ফিক্সড প্রাইসিং অফার করে। এছাড়া গুগলের “Mandiant” থ্রেট ইন্টেলিজেন্স এর সাথে যুক্ত থাকায় এটি অত্যন্ত শক্তিশালী। অন্যান্য পুরোনো টুলের তুলনায় এর থার্ড-পার্টি ইন্টিগ্রেশন ইকোসিস্টেম এখনো কিছুটা ছোট (তবে দ্রুত বাড়ছে)।
এক নজরে টুলগুলোর তুলনা

সবশেষঃ প্রতিটি টুলেরই নিজস্ব কিছু শক্তি রয়েছে। আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের নেটওয়ার্ক বা কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য SIEM নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাজেট, বর্তমান ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং সিকিউরিটি টিমের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে সঠিক টুলটি বেছে নিতে হয়।
আগের পর্বঃ SIEM কী? সাইবার নিরাপত্তায় এর গুরুত্ব ও কার্যপ্রণালী (পর্ব ১)


