টেকসিঁড়ি রিপোর্টঃ স্বনির্ভর প্রযুক্তি এবং টেলিযোগাযোগ সেবা না হলে কি হতে পারে তা আমরা রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে দেখেছি। বাংলাদেশ এখনো এই সেক্টরে সম্পূর্ণ পরনির্ভরশীল। প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা দৈনিক ডিজিটাল লেনদেন হয় যা সম্পূর্ণ পরনির্ভরশীল টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি সেবার উপর নির্ভরশীল। যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে যায় যদি কোন দুর্ঘটনা তাহলে দেশের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা সরকারকে অনুমান করতে হবে। এ কথাগুলো বলেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সাবেক পরিচালক খালেদ আবু নাসের।
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন এর উদ্যোগে স্বনির্ভর টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি সেবার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনে খালেদ আবু নাসের উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে অতিমাত্রায় ভারত নির্ভরতা জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে—এই বাস্তবতা তুলে ধরে আজ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের মোবাইল অপারেটর, টাওয়ার কোম্পানি, আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ, সফটওয়্যার সেবা, নেটওয়ার্ক মেইনটেন্যান্স, ভেন্ডর সাপোর্ট, কল সেন্টার, আইটি আউটসোর্সিং ও বিভিন্ন কোর নেটওয়ার্ক সার্ভিসে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের আধিপত্য তৈরি হয়েছে। এতে করে দেশীয় দক্ষ জনশক্তি বঞ্চিত হচ্ছে, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে এবং জরুরি সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, মানবাধিকার ও সমাজকর্মী সাধনা মহল, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য মাহফুজ, নকিব খান, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু প্রমুখ।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, মোবাইল অপারেটর ও টাওয়ার কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল ও ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক কর্মরত। আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ও ডেটা রুটিংয়ে ভারতীয় নির্ভরতা থাকায় দেশের তথ্য নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ। সফটওয়্যার, বিলিং সিস্টেম, নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (NOC) ও ভেন্ডর সাপোর্টে দেশীয় বিকল্প থাকা সত্ত্বেও সেগুলোকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। এই নির্ভরতার ফলে দেশীয় আইটি উদ্যোক্তা ও প্রকৌশলীদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি খাতে স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সংগঠনটি বিশ্বাস করে, দেশীয় মেধা, প্রযুক্তি ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ অবশ্যই একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও শক্তিশালী টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি খাত গড়ে তুলতে পারবে।
সংগঠনটি সরকারের প্রতি নিম্নোক্ত দাবিগুলো উত্থাপন করেন,
*টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি খাতে অপ্রয়োজনীয় বিদেশি (বিশেষত ভারতীয়) নির্ভরতা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনতে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন।
*মোবাইল অপারেটর ও টাওয়ার কোম্পানিতে দেশীয় প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা।
*আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ও ডেটা রুটিংয়ে বহুমুখীকরণ এবং দেশীয় অবকাঠামো জোরদার করা।
*সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক মেইনটেন্যান্স ও আইটি সেবায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার প্রদান।
*জাতীয় নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার স্বার্থে বিদেশি ভেন্ডর ও জনবলের কার্যক্রম কঠোর নজরদারিতে আনা।
*দেশীয় প্রযুক্তি শিল্প গড়ে তুলতে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এসব যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


