22 C
Dhaka
২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ‎ ‎ ‎ ‎‎ ‎ ‎ ‎ ‎ ‎ ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ‎ ‎ ‎‎ ‎ ‎ ‎ ‎ ‎ ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
টেকসিঁড়ি

রকমারি !

তাহমিদা হোসেন : রিডার্স ব্লকে ভুগছি দুই বছরের মত। এর থেকে বের হওয়ার উপায় সম্ভবত খুঁজে পেয়েছি। ছোট গল্প আর এক বসায় শেষ করা যায় এমন বইগুলো এক্ষেত্রে বেশ কার্যকরী। আশা করছি বাস্তবের নাটক থেকে বের হয়ে আবার কল্পলোকে বিচরণ করতে পারবো।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর নাম সম্ভবত সকল শিক্ষার্থী ব্যাকরণ বইয়ে দেখেছে। ওনার আর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের একেক রকমের সংগা মুখস্ত করা হ্যাপা ছিল। সে যাক গে..।

তাঁর বিস্তৃত কর্মজীবনে বেশ কিছু ছোট গল্প লিখেছিলেন। মূলত গত শতকের বিশ আর ত্রিশের দশকে পত্রিকায় বের হওয়া ছোট গল্পগুলো নিয়ে ১৯৩০ সালে বের হয়েছিল তাঁর প্রথম গল্পের বই “রকমারি”। সে সংকলনই একবিংশ শতাব্দীতে পুত্র মুর্তজা বশিরের ভূমিকায় নতুন ভাবে “ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর শ্রেষ্ঠ গল্প” নামে বের হয়েছে।

মোট বারোটি গল্পে তৎকালীন সমাজের মানুষ, তাদের জীবনযাত্রা, মনোভাব আর দর্শন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ব্যাকরণের সাধুভাষায় লেখা সংগাগুলো মুখস্ত করতে যেমন একঘেয়ে লাগতো চলিত ভাষায় রচিত এই গল্পগুলোর ক্ষেত্রে তার বিপরীতটা লাগবে দৃঢ়ভাবে বলতে পারি।

হৃদয়স্পর্শী লেখায় তিনি তুলে ধরেছিলেন তৎকালীন নির্মম বাস্তবতা। এছাড়া বাঙালী সংস্কৃতিতে বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব কিছুটা লক্ষ্যণীয় গল্পগুলোতে।

৬৪ পৃষ্ঠার বই। এক বসাতে শেষ করা যাবে সহজেই। প্রত্যেকটা গল্পের শেষে ব্যক্তির নিজস্বভাবে উপলব্ধি করার মত বিষয়বস্তু রয়ে যায়। একশো বছর আগেকার কিছু পুরনো বাংলা বানান যেগুলো এখন অনেকটা রূপান্তরিত রয়েছে সেসব দেখলে অজানা অতীতে নিজের অজান্তেই ভ্রমণ হয়ে যাবে।

পছন্দের উদ্ধৃতি –

“দেখাকে না চিনলে কি অদেখাকে চেনা যায়?”

“সমস্ত জীব জন্তুর দুটো চোখ সামনে থাকবার মানে হ’ল ভবিষ্যতের দিকে যেন নজর থাকে।”

লেখকের মুখবন্ধে শেষ লাইনটি ছিল –

“যদি কারও ভালো লাগে,আমার কলম ধন্য।”

আরো শত বছর পরও আপনার কলম পাঠকদের মুগ্ধ করবে।

Related posts

রাঙ্গামাটিতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ

TechShiri Admin

আইসিপিসি তে বাংলাদেশের চমক!

Samiul Suman

থ্রিডি প্রেডিক্ট ক্লিয়ার অ্যালাইনার: বাংলাদেশের ডেন্টাল চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত

TechShiri Admin

Leave a Comment