টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : দীর্ঘ আলোচনা ও অপেক্ষার পর ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) অবশেষে গ্রামীণফোনের হাতেই যেতে যাচ্ছে। নিলামে অন্য কোনো মোবাইল অপারেটর অংশ না নেওয়ায় একক অংশগ্রহণকারী হিসেবে গ্রামীণফোনকে এই স্পেকট্রাম বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
বুধবার বিটিআরসির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম গ্রামীণফোনকে ২৩৭০ কোটি টাকায় বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই বরাদ্দের মেয়াদ হবে ১৫ বছর এবং প্রতিবছর সমান কিস্তিতে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
বিটিআরসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট কমিটির সিদ্ধান্তটি শিগগিরই কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হবে। কমিশনের অনুমোদনের পর গ্রামীণফোনের নামে ডিমান্ড নোট ইস্যু করা হবে।
এ বিষয়ে বিটিআরসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিটিআরসি চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, স্পেকট্রাম নিলাম কমিটি ও স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় গ্রামীণফোনকে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫ সালে একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে প্রায় বিনামূল্যে ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেয় বিটিআরসি, যা পরে বাতিল করা হয়। তবে বিষয়টি আদালতে গড়ালে দীর্ঘদিন আইনি জটিলতায় আটকে থাকে এই মূল্যবান স্পেকট্রাম এবং তা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই আইনি জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হলে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের স্পেকট্রাম নিলামের সিদ্ধান্ত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর গত ২৭ নভেম্বর বিটিআরসি তাদের ওয়েবসাইটে ২৫ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম নিলামের নির্দেশিকা প্রকাশ করে। প্রাথমিকভাবে নিলামের তারিখ নির্ধারিত ছিল ১৪ জানুয়ারি।
নিলামে শুরুতে গ্রামীণফোন ও রবি অংশ নিলেও পরবর্তীতে রবি তাদের আবেদন প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে প্রতিযোগিতাহীন নিলামের পরিস্থিতি তৈরি হলে বিটিআরসি নিলামের সময়সূচি পরিবর্তন করে ২১ জানুয়ারি নির্ধারণ করে এবং নিলাম নির্দেশিকায় সংশোধন আনে। সংশোধিত নির্দেশিকায় একক অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্পেকট্রাম বরাদ্দের সীমা ১৫ মেগাহার্টজ থেকে কমিয়ে ১০ মেগাহার্টজ করা হয়।
বুধবার অনুষ্ঠিত বিটিআরসির স্পেকট্রাম নিলাম পরিচালনা কমিটির সভায় একক অংশগ্রহণকারী হিসেবে গ্রামীণফোনকে ভিত্তিমূল্যে স্পেকট্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। নিলাম নীতি অনুযায়ী প্রতি মেগাহার্টজের ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ২৩৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের জন্য সরকার পাচ্ছে মোট ২৩৭০ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, এই নিলামে মোট ২৫ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম তোলার পরিকল্পনা থাকলেও ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের অবশিষ্ট ২০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম একটি আইএসপি প্রতিষ্ঠান ‘অলওয়েজ অন নেটওয়ার্ক’-এর সঙ্গে চলমান আইনি বিরোধের কারণে বর্তমানে নিলামে তোলা সম্ভব হয়নি।
এদিকে মামলার নিষ্পত্তি ছাড়া এই স্পেকট্রাম ব্যান্ডের সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয় বলে বলছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন। সেখানে তাদের বক্তব্য, অব্যবহৃত স্পেকট্রাম রাষ্ট্রের দখলে ফিরিয়ে এনে ৪৫ মেগাহার্টজ সম্পূর্ণ ব্লক আকারে একত্রে নিলাম করা হোক। এতে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়, গ্রাহকদের উন্নত নেটওয়ার্ক সুবিধা এবং রাষ্ট্রের ফিডিউশিয়ারি দায়িত্ব পালিত হবে, যা স্পেকট্রামের মতো দুর্লভ জাতীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবে।
এদিকে, সম্প্রতি অল্প সময়ের ব্যবধানে অন্য একটি ব্যান্ডে স্পেকট্রাম বরাদ্দ চেয়ে রবি ও বাংলালিংক বিটিআরসির কাছে পৃথকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।


