টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক অনলাইন কন্টেন্ট সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে। নাবালকদের অতিরিক্ত আসক্তি থেকে রক্ষা করতে কোম্পানিটিকে তাদের অ্যাপের “অ্যাডিক্টিভ” বা আসক্তি সৃষ্টিকারী ফিচারগুলো পরিবর্তনের কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্তৃপক্ষ।
ইউরোপীয় কমিশন গত শুক্রবার টিকটকের ওপর পরিচালিত একটি তদন্তের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, টিকটকের ইনফিনিট স্ক্রল (infinite scroll), অটোপ্লে (autoplay), পুশ নোটিফিকেশন এবং পার্সোনালাইজড রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের অ্যাপে আসক্ত হতে উৎসাহিত করে।
ইইউ টেক প্রধান হেনা ভিরক্কুনেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের নাবালকদের সুরক্ষায় টিকটককে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ইউরোপে তাদের পরিষেবার ডিজাইন পরিবর্তন করতে হবে।”
ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র থমাস রেগনিয়ার জানান, টিকটক বর্তমানে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছে তা পর্যাপ্ত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই ফিচারগুলো বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে অ্যাপ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা তৈরি করে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি। এটি ডিজিটাল সার্ভিস অ্যাক্ট -এর সরাসরি লঙ্ঘন। এই আইন লঙ্ঘনের দায়ে ইইউ রেগুলেটররা টিকটকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সকে তাদের বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করার হুমকি দিয়েছে।
অন্যদিকে, টিকটক এই তদন্তের ফলাফলকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। কোম্পানির একজন মুখপাত্র বলেন, “কমিশনের প্রাথমিক ফলাফল আমাদের প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং অযৌক্তিক চিত্র তুলে ধরেছে। আমরা এই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেব।” এই তদন্তটি এমন এক সময়ে এলো যখন ইউরোপীয় দেশগুলো শক্তিশালী টেক এবং সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করছে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে টিকটকের বিরুদ্ধে এই তদন্ত শুরু হয়েছিল। তদন্তে কিছু উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে মধ্যরাতের পর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ হলো টিকটক। এছাড়া ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের ৭ শতাংশ প্রতিদিন অন্তত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা এই অ্যাপে সময় কাটায়।


