টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : সম্প্রতি মেটা তাদের মেটাভার্স প্রকল্প পরিচালনাকারী বিভাগ ‘রিয়েলিটি ল্যাবস’ থেকে ১,৫০০ কর্মীকে ছাঁটাই করেছে এবং ৩টি ভিআর গেম স্টুডিও বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া আসুস ও লেনোভোর সাথে অংশীদারিত্বে মেটা ওএস-চালিত যেসব ভিআর হেডসেট আসার কথা ছিল, সেগুলোও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সায়েন্স ফিকশন মুভির মতো ত্রিমাত্রিক ভার্চুয়াল জগতের বদলে মেটা এখন তাদের বিনিয়োগের বড় অংশ স্মার্ট চশমা এবং পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির দিকে সরিয়ে নিচ্ছে। তবে কি মেটার মেটাভার্স স্বপ্ন ফিকে হয়ে যাচ্ছে ?!
২০২১ সালের অক্টোবরে যখন মার্ক জাকারবার্গ ফেসবুকের নাম বদলে ‘মেটা’ (Meta) রেখেছিলেন, তখন লক্ষ্য ছিল একটাই—প্রযুক্তির পরবর্তী ধাপ ‘মেটাভার্স’ (Metaverse)-কে বাস্তব রূপ দেওয়া। কিন্তু সেই ঘোষণার ৫ বছর পার হওয়ার পর এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের শেষে সেই উচ্চাভিলাষী স্বপ্ন এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
মেটাভার্সের শুরুটা ছিল অনেক বেশি প্রচার আর আশার ফুলঝুরি দিয়ে। জাকারবার্গ এমন এক ভবিষ্যতের কথা বলেছিলেন যেখানে মানুষ থ্রিডি অ্যাভাটারের মাধ্যমে একে অপরের সাথে কথা বলবে ও কাজ করবে। কিন্তু বাস্তবে গ্রাহকরা যা পেয়েছেন তা ছিল হতাশাজনক। ব্যবহারকারীদের দীর্ঘমেয়াদী আগ্রহের অভাব এবং নিম্নমানের গ্রাফিক্সের কারণে ইন্টারনেটে বিদ্রূপের শিকার হতে হয়েছে মেটাকে। বিশেষ করে ‘পা-হীন’ (legless) অ্যাভাটার মেটাভার্সের ভাবমূর্তিকে অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
আইডিসি এর গবেষণা পরিচালক রামন লামাস বলেন, “শুরুতে এটি খুব দারুণভাবে বিক্রি করা হয়েছিল। কিন্তু মেটাভার্সকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে যে ধরণের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন প্রয়োজন ছিল, তা তখনো তৈরিই হয়নি।” যদিও মেটা তাদের ‘কোয়েস্ট’ (Quest) সিরিজের মাধ্যমে প্রচুর ভিআর হেডসেট বিক্রি করেছে, কিন্তু তাদের মূল সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম ‘মেটা হরাইজন’ (Meta Horizon) সাধারণ ব্যবহারকারীদের মন জয় করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
মেটাভার্স মুখ থুবড়ে পড়লেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই ধারণার শেষ এখানেই নয়। গার্টনার অ্যানালিস্ট তুয়ং নগুয়েনের মতে, মেটাভার্স কোনো নির্দিষ্ট পণ্য বা প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং এটি ইন্টারনেটের বিবর্তনের একটি বড় প্রক্রিয়া।
মেটা এখন মেটাভার্স থেকে সরে এসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত (AI-powered) স্মার্ট গ্লাসের দিকে নজর দিচ্ছে। মেটাভার্সের এই যাত্রা হয়তো সরাসরি সফল হয়নি, তবে এটি মেটাকে আধুনিক প্রযুক্তির নতুন কিছু উদ্ভাবনে পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছে। এই প্রযুক্তি কবে নাগাদ জনপ্রিয় হবে, তা এখনো অজানাই রয়ে গেল।


