টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : জনপ্রিয় কলার আইডি এবং স্প্যাম ব্লকিং অ্যাপ ট্রুকলার তাদের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১৫ শতাংশ বা ৭০ জন কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।
২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে কোম্পানির রাজস্ব ও মুনাফায় বড় ধরনের পতন হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে যাওয়ায় কোম্পানিটি এখন ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে।
টেকক্রাঞ্চ জানিয়েছে , ট্রুকলারের আয়ের প্রধান উৎস ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ভারতে ‘রিয়েল মানি গেমিং’ বা টাকার বিনিময়ে খেলা অ্যাপগুলোর ওপর সরকারি কড়াকড়ির কারণে ট্রুকলারের বিজ্ঞাপন আয় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চল থেকেও কোম্পানির আয় কমেছে। পাশাপাশি, গুগলের মতো বড় বিজ্ঞাপন অংশীদারদের অ্যালগরিদম পরিবর্তনও আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ট্রুকলারের সিইও ঋষিত ঝুনঝুনওয়ালা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং অপারেশনাল খরচ কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে যাওয়ার কারণে বর্তমানে কোম্পানিটি সাবস্ক্রিপশন ফি এবং অন্যান্য আয়ের উৎসের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। এই ছাঁটাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা বার্ষিক উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যয় সাশ্রয় করতে পারবে বলে আশা করছে।
২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ট্রুকলারের মোট বিক্রি ২৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনায়। ভারতের বাজারে বিক্রি কমার হার আরও উদ্বেগজনক, যা প্রায় ৪১ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে আইপিএল চলাকালীন গেমিং অ্যাপগুলো থেকে যে পরিমাণ বিজ্ঞাপন পাওয়া গিয়েছিল, এবার তা না থাকায় আয়ের ব্যবধান অনেক বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে। গত ১২ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ৭৯ শতাংশ কমেছে।
ব্যবসায়িক মন্দার মধ্যেও ট্রুকলার একটি বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বিশ্বজুড়ে তাদের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ৫০০ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি ছাড়িয়েছে। এছাড়া, এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ফ্যামিলি প্রোটেকশনের মতো নতুন ফিচার যুক্ত করায় সাবস্ক্রিপশন থেকে আয় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কোম্পানির মোট বিক্রির ৩১ শতাংশই আসছে পেইড সাবস্ক্রিপশন থেকে, যা ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক দিক।
ট্রুকলার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব কর্মী চাকরি হারিয়েছেন তাদের প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।


