টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে শিশুদের ক্ষতির অভিযোগে দায়ের করা মামলার পাহাড় জমছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতগুলোতে। এর মধ্যে প্রথম দুটি বড় মামলার রায়ে মেটা এবং অ্যালফাবেটের গুগলকে দায়ী করা হয়েছে।
এই রায়গুলো টেক জায়ান্টদের আইনি সুরক্ষা কবচ হিসেবে পরিচিত ‘সেকশন ২৩০’ কে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, যা শেষ পর্যন্ত একটি দীর্ঘ আইনি লড়াই বা আপিল যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি জুরি বোর্ড বুধবার মেটা এবং গুগলকে এক তরুণীর বিষণ্ণতা ও আত্মহত্যার প্রবণতার জন্য দায়ী করেছে। ওই তরুণীর দাবি, অল্প বয়সেই তিনি ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। আদালত এই দুই কোম্পানিকে সম্মিলিতভাবে ৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, নিউ মেক্সিকোর একটি পৃথক মামলায় জুরি বোর্ড মঙ্গলবার মেটাকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে। সেখানে অভিযোগ ছিল, মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করেছে এবং শিশুদের যৌন নিপীড়নের পথ সুগম করে দিয়েছে।
এই রায়গুলো মূলত ১৯৯৬ সালের ‘কমিউনিকেশনস ডিসেন্সি অ্যাক্ট’-এর ‘সেকশন ২৩০’ নামক সুরক্ষা আইনটিকে ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে এই আইনটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা কন্টেন্টের দায় থেকে রক্ষা করে আসছিল।
তবে এবারের মামলাগুলোতে বাদিপক্ষ যুক্তি দেখিয়েছে যে, তারা কন্টেন্টের জন্য নয়, বরং প্ল্যাটফর্মগুলোর আসক্তিকর ‘ডিজাইন’ বা কারিগরি কাঠামোর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালত এখন প্ল্যাটফর্মের ফাংশন বা কার্যকারিতাকে কন্টেন্ট থেকে আলাদা করে দেখছে, যা এই কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মেটা এবং গুগল অবশ্য এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে। মেটার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের সঙ্গে একমত নন এবং তরুণদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গুগলও লস অ্যাঞ্জেলেসের মামলায় আপিল করার পরিকল্পনা করছে।
বর্তমানে স্ন্যাপচ্যাট এবং টিকটকের মতো কোম্পানিগুলোও একই ধরনের হাজার হাজার মামলার মুখোমুখি হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল এবং স্টেট কোর্টে প্রায় ২,৪০০-এর বেশি মামলা একত্রিত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি আইনের ধরণ বদলে দিতে পারে।


