টেকসিঁড়ি রিপোর্ট : দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চীনে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স (Apple Intelligence )চালু করার জন্য দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ চায়না’ থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছে অ্যাপল।
টেকক্রাঞ্চ ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনে অ্যাপলের এই এআই সেবাটি মূলত আলিবাবার তৈরি Qwen (কোয়েন) এআই মডেলের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। চীনে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স চালু করার জন্য অ্যাপল এর আগে বাইদু , ডিপসিক, এবং বাইটড্যান্স-এর মতো বেশ কয়েকটি স্থানীয় এআই মডেল পরীক্ষা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তারা আলিবাবাকেই তাদের প্রধান পার্টনার হিসেবে বেছে নেয়।
২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স উন্মোচন করা হলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের জটিলতায় এটি চীনের বাজারে আটকে ছিল। চীনের মতো বিশাল বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে এই অনুমোদন অ্যাপলের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অ্যাপলের বিক্রি ২৮% বেড়ে ২০.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে । এই খবরটি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে আলিবাবার শেয়ারের দাম প্রায় ৪ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
আলিবাবা নিশ্চিত করেছে যে, চীনের ব্যবহারকারীদের জন্য iOS, iPadOS, macOS এবং visionOS-এর সাথে Qwen মডেলটি ইন্টিগ্রেট (যুক্ত) করা হবে। তবে প্রাথমিক লাইসেন্সটি আইফোনের জন্য দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট ফিচারের জন্য বাইদুর প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হতে পারে।
চীনের কঠোর সরকারি নিয়ম ও কনটেন্ট ফিল্টারিং পলিসি মেনে চলার জন্য অ্যাপল স্থানীয় টেক জায়ান্ট আলিবাবার সাথে চুক্তি করেছে। এর ফলে চীনা ব্যবহারকারীরা অ্যাপল ডিভাইসে সরাসরি আলিবাবার Qwen মডেলের টেক্সট ও ইমেজ জেনারেশন এবং আন্ডারস্ট্যান্ডিং (বোঝার ক্ষমতা) সহ বিভিন্ন অ্যাডভান্সড এআই ফিচার ব্যবহার করতে পারবেন।
অনুমোদন মিললেও অ্যাপল বা আলিবাবা এখনো চীনে এই ফিচারগুলো রোল-আউট করার সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করেনি। তবে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছরের শেষ দিকে বা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে চীনা ব্যবহারকারীরা আইফোনে এই ফিচারগুলো পেতে পারেন।



